রাহুল-ডেরেকদের বাস মাঝপথে আটকাল দিল্লি পুলিশ, রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ প্রিয়াঙ্কার

India Bloc Movement Photo-SNS

মঙ্গলবারের রেশ কাটার আগেই বুধবার আবার উত্তাল হয়ে উঠল নয়াদিল্লির রাজপথ।  এদিন আবার অনির্দিষ্টকালের ধর্নার পরিকল্পনায় পথে নেমে পড়ে ইন্ডিয়া জোট। এবার যন্তর মন্তরের দিকে রওনা দেয় বিরোধীদের বাস। তবে যন্তরমন্তরে পৌঁছানোর আগেই বিরোধী সাংসদদের বাস আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। বাধা দিতেই চরমে ওঠে বিক্ষোভ। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে পথে নামলেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদরা। বাসে করে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তবে যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই মাঝপথে বাস আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। আর সেখানে ভিড় করে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হতেই অশান্তি চরমে ওঠে।

এদিকে যতদিন না জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দেবেন, ততদিন আন্দোলন চলবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাই রোজ নিত্যনতুন কর্মসূচি পালন করছেন সাংসদরা। মঙ্গলবারও বিরোধী জোটের সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। সেই একই ছবি দেখা গেল বুধবারও। তবে দিল্লি পুলিশ পথ আটকাতেই বাস থেকে নেমে পড়েন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ বিরোধী সাংসদরা। আর যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন তাঁরা। জমায়েত থেকে ‘ভোটচুরির’ প্রতিবাদ এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে স্লোগান তোলা হয়। শান্তিপূর্ণ জমায়েতে পুলিশ দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী সাংসদরা। আর পুলিশের বিরুদ্ধে এই হেনস্থার অভিযোগ তুলে রাস্তাতেই শুয়ে প্রতিবাদ জানান প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্য মহিলা সাংসদরা।

 


অন্যদিকে এমন পরিস্থিতিতে বেজায় বিড়ম্বনায় পড়ে যায় দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনার আগে বুধবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিরোধী সাংসদদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজনে বসেন। নয়াদিল্লির নামী রেস্তোরাঁয় জড়ো হন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। সেখানে খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বৈঠকও হয়। এই বৈঠকে সবাইকে চমকে দিয়ে যোগ দেন আপের প্রতিনিধিরাও। ওখান থেকেই রাহুল গান্ধী ঘোষণা করেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে আমরা সরিয়েই ছাড়ব। ওকে ইস্তফা দিতেই হবে।’ এরপরই বিরোধীদের বাস রওনা দেয় যন্তর মন্তরের দিকে। আর তাই বিরোধী সাংসদরা পৌঁছনোর আগেই যন্তর মন্তরে ১৬৩ ধারা জারি করে দেয় দিল্লি পুলিশ। সুতরাং সেখানে আইনত জমায়েত নিষিদ্ধ। কিন্তু বাসে করে সাংসদরা চলে যান যন্তর মন্তরে। যদিও সেখানে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়। সাংসদরা গাড়ি থেকে নামার পর পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। রাস্তায় শুয়ে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আশপাশ ঘিরে রাখেন অন্য সাংসদরা।

তাছাড়া এসআইআর বিতর্কের আবহে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে চান বিরোধী সাংসদরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সময় চেয়ে তাঁকে চিঠি দিতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া জোট’। আর একই সারিতে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে বসিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্য, ‘জ্ঞানেশ কুমার যেটা করছেন সেটার নেপথ্যে নরেন্দ্র মোদীর হাত রয়েছে। আজ সব দল এক জায়গায় এসে দেশের মানুষকে বলছে, কীভাবে তাঁদের ভোট চুরি হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যত খুশি মামলা করার করুন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চলবেই।’