লোকসভা নির্বাচনের পরে ফের সক্রিয় হতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে এই জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে রাজধানীতে যাবেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল ও তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রথমে ২ জুন এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক শীর্ষ নেতার সময় দিতে না পারার কারণে তা পিছিয়ে ৮ জুন করা হয়। বিরোধী শিবিরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। সেই সময় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব কলকাতায় এসে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ছিল বিরোধী ঐক্য বজায় রাখার এক বার্তা।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সূত্রের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একাধিক বিধায়ক দলের বৈঠকে অনুপস্থিত থেকেছেন বলেও খবর।দলের অস্থিরতা ও সম্ভাব্য ভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার রাজপথে নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের পর দলের নেতা-কর্মীদের উপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ হচ্ছে। তিনি বার্তা দিয়েছেন চাপ বা ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না। তাঁর দাবি, দল আবার শক্তিশালীভাবে ফিরে আসবে।
৮ জুনের এই বৈঠককে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর জোটভুক্ত দলগুলি নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে চাইছে। লোকসভা নির্বাচনের পর বিরোধী রাজনীতিতে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, ৮ জুনের বৈঠক তা কতটা কাটিয়ে উঠতে পারে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।