বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় সামনে এসেছে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিপুল সম্পত্তির হিসাব। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯৬ কোটি ৬ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রী, চিকিৎসক জাহ্নবী দাসের সম্পত্তির পরিমাণ ১০১ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ দম্পতির মোট ঘোষিত সম্পদের মূল্য প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোরের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭৩ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, জাহ্নবী দাসের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৮৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১২ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা। প্রশান্ত কিশোরের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে তাঁর মালিকানাধীন ‘বেদাস ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থা থেকে। এই সংস্থায় তাঁর ১০০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এছাড়া তাঁর নামে একাধিক ফিক্সড ডিপোজিট, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ রয়েছে। জাহ্নবী দাসের মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সোনার অলঙ্কার এবং একাধিক আর্থিক সম্পদ।
রোহতাস জেলায় ৩ একরেরও বেশি জমির উপর একটি বন্ধ চালকল, পাটনার পাটলিপুত্র কলোনি, দিল্লির বসন্ত বিহার, গাজিয়াবাদে বাড়ি এবং পৈতৃক সম্পত্তিতে অংশীদারিত্ব রয়েছে প্রশান্ত কিশোরের। তাঁর স্ত্রীর নামেও রয়েছে একাধিক আবাসন। হলফনামায় গত ৫ বছরের আয়ের হিসাবও দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রশান্ত কিশোরের আয় ছিল ৮ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। পরের অর্থবর্ষে তাঁর আয় ৫৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। কারণ ওই বছর তিনি জন সুরজ পার্টিকে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। জাহ্নবী দাসের বার্ষিক আয়ও গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা।
প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছেন, তাঁর আয়ের প্রধান উৎস রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ, ব্যবসা এবং ব্যাঙ্কের সুদ। অন্যদিকে, জাহ্নবী দাসের আয়ের উৎস চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ, ব্যাঙ্কের সুদ এবং ভাড়া। হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৮টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। তবে কোনও মামলাতেই এখনও তাঁর বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়নি।
উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্র থেকেই প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন প্রশান্ত কিশোর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘এটি শুধু আমার মনোনয়ন নয়, বিহারের পরিবর্তনের মনোনয়ন। অপরাধমুক্ত এবং উন্নত বিহার গড়ার লড়াইয়ের সূচনা আজ থেকেই।’