প্রবল গরমে কার্যত হাঁসফাঁস করছে গোটা দেশ। রাজধানী দিল্লিতেও ছবিটা আলাদা কিছু নয়। অসহনীয় দাবদাহে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে কোনও স্বস্তির খবর দিতে পারল না মৌসম ভবন। আইএমডির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। মৌসম ভবন তার পূর্বাভাস জানিয়েছে, দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। সপ্তাহের শুরুতেই তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তর এখনও পর্যন্ত কোনও বিশেষ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি না করলেও গরম হাওয়া বা ‘লু’ বইতে পারে বলে জানিয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস, ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে গরম ও শুষ্ক হাওয়া বইতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে গরম ও শুষ্ক বাতাস প্রবেশ করছে। মধ্য পাকিস্তান ও রাজস্থান থেকে আসা এই উষ্ণ বায়ুর জেরেই দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শুধু দিল্লি নয়, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও রাজস্থানেও ১৮ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে ১৯ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত তীব্র গরম ও লু-এর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ, ছত্তিসগড় ও তেলেঙ্গানাতেও গরমের দাপট বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। এই সব রাজ্যেও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইএমডি জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন দেশের বহু জায়গায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে কেরল উপকূল দিয়ে দেশে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরের বর্ষা নিয়ে উদ্বেগ থাকছে। আইএমডির পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। যা কৃষিকাজে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির কারণেই মৌসুমি বায়ু দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।