তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একসময় অপরাজেয় শক্তি ছিল জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন দল এআইএডিএমকে। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে নেমে আসার পর থেকেই দলের ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। সোমবার আরও এক বিধায়ক এম আর বিজয়ভাস্কর দল থেকে সরে দাঁড়ালেন। এর ফলে গত দু’মাসে দল ছাড়লেন মোট ছয়জন বিধায়ক। ফলে একসময়ের তামিলনাড়ুর শাসকদলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা।
সোমবার দল থেকে ইস্তফা দেন এম আর বিজয়ভাস্কর। তিনি তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীতও হয়। ইস্তফার পর তিনি দলের প্রধান কে পালানিস্বামী এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। রাজনৈতিক মহলের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি অভিনেতা-বিজয় প্রতিষ্ঠিত টিভিকে দলে যোগ দিতে পারেন। ইতিমধ্যেই এআইএডিএমকে থেকে ইস্তফা দেওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজন টিভিকে-তে যোগ দিয়েছেন এবং বাকি দু’জনও একই পথে হাঁটতে পারেন বলে খবর।
ক্রমাগত ভাঙনের জেরে এআইএডিএমকের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১-এ। সূত্রের দাবি, আরও অন্তত ১৬ জন বিধায়ক বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহী। এমনকী, পালানিস্বামী যদি বিজয়ের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি না হন, তবে বিদ্রোহী শিবির নিজেদেরই ‘আসল’ এআইএডিএমকে হিসেবে দাবি করতে পারে। অর্থাৎ বাংলায় ক্ষমতায় হারানো পর তৃণমূল কংগ্রেসের যে পরিস্থিতি হয়েছে তামিলনাড়ুতেও সেই একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছে জয়ললিতার দল।
জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকেই দলটি একের পর এক বিভাজনের মুখে পড়েছে। কখনও শশিকলা, কখনও ও পনিরসেলভম, কখনও দিনাকরণের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। সেই ক্ষত এখনও সারেনি। তার উপর নতুন করে বিধায়কদের দলত্যাগ এআইএডিএমকের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
অসম গণপরিষদ, রাষ্ট্রীয় লোকদল, আইএনএলডি বা অকালি দলের মতোই কি এবার ইতিহাসের পাতায় সরে যাবে এআইএডিএমকে? তামিল রাজনীতিতে এখন সেই প্রশ্নই সবচেয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।
দক্ষিণী তারকা এমজি রামচন্দ্রমের প্রতিষ্ঠিত দল এআইডিএমকে কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ললিতা। তৈরি করেছিলেনন অপরাজেয় একটি দল। তামিলনাড়ুর জনগণের কাছে নিজেও পরিচিত হয়েছিল আম্মা হিসেবে। একাধিকবার ধাক্কা খেলেও জয়ললিতা নিজের দলকে এগিয়ে কিন্তু জয়ললিতার প্রয়াণের পর থেকেই পতন শুরু হয়েছে দলের। আর এবারে কার্যত অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই দল।