সম্পর্কে বরফ গলছে: তারেকের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক, ঢাকায় গেলেন ‘র’ প্রধান

Image: ANI

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে— এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  (Tarique Rahman) ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর (Dinesh Trivedi)  সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)  ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে এটাই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

প্রায় একই সময়ে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন (Parag Jain) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জানা গেছে, রবিবার বিকেলে তিনি ও তাঁর দল ঢাকায় পৌঁছান।

মনে করা হচ্ছে, তারেক রহমান (Tarique Rahman) শীঘ্রই দিল্লি সফরের পরিকল্পনা পাঠাতে পারেন। সেপ্টেম্বর মাসে হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি সেখানে বিমস্টেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন: আসামে বন্যায় মৃত ১০০, জলবন্দি ১.৩৭ লক্ষ, এখনও প্লাবিত ৪৫৬ গ্রাম

সোমবার সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা সামনে এগোতে চাই। আমাদের আমন্ত্রণ বহাল আছে। দুই দেশের নেতা যদি সাক্ষাৎ করেন, তাহলে আলোচনা হবে। ভালো সম্পর্ক হলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।’


সোমবারের এই দুটি বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা বেড়েছিল। বিশেষ করে দিল্লিভিত্তিক মার্কিন রাষ্ট্রদূত (মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া) সার্জিও গোর সম্প্রতি ঢাকায় এসে তারেক রহমান ও দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এর এক সপ্তাহ আগে, শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) দিল্লিতে একটি অনলাইন সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেন যে, তিনি ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় যাবেন, পরিণতি যাই হোক না কেন। এই বক্তব্য ঢাকার রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করে এবং এ নিয়ে একটি কড়া সরকারি বিবৃতিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এর ফলে আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুন: এলপিজি গ্রাহকদের জন্য সুখবর! বুকিংয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে সিলিন্ডার, ইন্ডিয়ান অয়েলের নতুন পরিষেবা

বাংলাদেশে নতুন নির্বাচিত বিএনপি (BNP)  সরকারকে ভারতের সঙ্গে দ্রুত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। তবে কিছুদিন ধরে তারা ভারতের উপর চাপ তৈরি করতে চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কৌশল নিচ্ছিল। এর মাধ্যমে তারা দিল্লির কাছ থেকে কিছু ছাড় আদায় করতে চেয়েছে।

তারেক জুন  (Tarique Rahman) মাসে বেইজিং সফর করে বেশ কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্পে চুক্তি করেন, যেগুলোর কিছু ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় দিল্লির উদ্বেগ বাড়ে। পাশাপাশি, তাঁর সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালায়—বাংলাদেশের জন্য ১৬ থেকে ৪৮টি জেএফ-১৭ ব্লক ৩ যুদ্ধবিমান কেনা এবং পুরনো ট্যাঙ্ক আধুনিকীকরণের বিষয়ে। এসব বিষয় ভারত ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখছে।

এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন কূটনীতিক গোরের ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, তিনি ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন— বিশেষ করে বাংলাদেশে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। একই সঙ্গে, তিনি চিনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারেও সতর্কবার্তা দেন, কারণ চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

দিল্লি দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখছে বাংলাদেশে চরমপন্থী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের পুনরুত্থানের দিকে। বিশেষ করে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার পর এই প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত এ বিষয়ে গোপনে তথ্য ও সতর্কবার্তা দিয়েছে।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/GmN8v_OXLOE?si=Jaq7UdiPgWIJj6RJ” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>

পরাগ জৈনের (Parag Jain) এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই ধরনের জঙ্গি গোষ্ঠী অতীতে বাংলাদেশ ও ভারত— উভয় দেশেরই ক্ষতি করেছে। যদিও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সুফি ইসলামের ঐতিহ্য রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বর্তমান সরকারের জন্য বিভিন্ন কারণে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina)  সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, ভারতের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা, গোয়েন্দা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটনের চাপ।