তাঁর উপর হওয়া ব্যর্থ হত্যার চেষ্টার ঘটনার পর প্রথমবার মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। বৃহস্পতিবার জম্মুর ভাটিণ্ডি এলাকায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, জীবনে কখনও কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেননি। তাই কেন কেউ তাঁকে আঘাত করতে চাইবে তা তাঁর বোধগম্য নয়।
ফারুক আবদুল্লা বলেন, ‘আমার দরজা সবার জন্যই খোলা। মানুষ আমার কাছে আসে, আমি তাদের কথা শুনি। যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করি। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েও আমি কাউকে ক্ষতি করিনি।’ তিনি জানান, ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আবদুল্লার কথায়, ‘তিনি আমার খোঁজখবর নেন। আমি বলি আল্লাহর কৃপায় আমি ভালো আছি। তিনি জানান হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত করে সব তথ্য আমাকে জানানো হবে।’
এই হামলার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না— এই প্রশ্নে ফারুক আবদুল্লা বলেন, তদন্তকারীরাই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। ‘আমি হামলাকারীকে চিনি না। তাঁর ছবি প্রথমবার গতকাল মোবাইল ফোনে দেখেছি’।
ঘটনার সময় কী হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গেও বিস্তারিত জানান এই প্রবীণ নেতা। তাঁর কথায়, ‘হঠাৎ ঘাড়ের পিছনে গরম কিছু অনুভব করি। তারপর একটি শব্দ শুনি, যা প্রথমে আতসবাজির মতো মনে হয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারীকে ধরে ফেলে। তাঁর হাত ঘুরিয়ে দেওয়ার সময় পিস্তল থেকে গুলি আকাশে চলে যায়।’ তিনি জানান, তখনই তাঁকে দ্রুত গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, মোট দু’টি গুলি ছোড়া হয়েছিল। ওই সময় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে স্থানীয় পুলিশের কোনও আলাদা ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের প্রশংসা করেন ফারুক আবদুল্লা। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপের জন্যই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা দেশে সন্ত্রাসবাদের নতুন উত্থানেরই ফল। তাঁর দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে— এমন দাবি বারবার না করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যপালের প্রতি আবেদন জানান তিনি।
জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এখানে নির্বাচিত সরকার থাকলেও তাদের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা নেই। সংসদ ও সর্বোচ্চ আদালতে মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত বছর কেটে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।’
শেষে তিনি বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং প্রত্যেকেরই নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। ‘আমি তাঁদের কথা পছন্দ নাও করতে পারি, তাঁরা আমার কথা পছন্দ নাও করতে পারেন। তবুও আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের মূল চেতনা।’