অত্যাচারে বিপর্যস্ত গৃহবধূ, বনগাঁ থানার অভিযানে ধরা পড়ল যুবক

প্রতীকী চিত্র

প্রতিবেশীর উপর ভরসা করেই জীবনে নতুন দিশা খুঁজছিলেন বনগাঁর এক গৃহবধূ। কিন্তু চাকরির প্রলোভনই যেন তাঁর জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াল। প্রথমে কলকাতা, তারপর মুম্বই—কাজের অজুহাতে নিয়ে গিয়ে বারবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অবশেষে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের। তারপর বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত যুবক। ঘটনায় উত্তাল বনগাঁ।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে অভিযুক্ত যুবক গৃহবধূকে আশ্বাস দেন, কলকাতায় কাজের ব্যবস্থা করবেন। আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ প্রতিবেশীর কথায় রাজি হয়ে যান। প্রথমে কলকাতা, পরে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে কোনও কাজ না দিয়ে উল্টে দিনের পর দিন শারীরিক নির্যাতন চলতে থাকে। নির্যাতিতার অভিযোগ, মুম্বইয়ে ভাড়া করা ঘরে আটকে রেখে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত।

দু’মাস আগে সুযোগ পেয়ে মুম্বই থেকে পালিয়ে আসেন গৃহবধূ। কোনওরকমে ট্রেনে চেপে বনগাঁয় ফিরে তিনি সরাসরি থানায় পৌঁছন। ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।


অভিযোগের ভিত্তিতে বনগাঁ থানার বিশেষ একটি টিম মুম্বইয়ে তল্লাশি অভিযানে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত শনিবার সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত যুবককে। সোমবার অভিযুক্তকে বনগাঁয় আনা হয়। মঙ্গলবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে তাঁকে।

গৃহবধূর কথায়, ‘আমার কাজের প্রয়োজন ছিল। তাই বিশ্বাস করেছিলাম। বলেছিল কলকাতায় কাজ মিলবে। তারপর মুম্বই নিয়ে গিয়ে প্রতিদিন আমার ওপর অত্যাচার করত। কোনওভাবে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছি।’

ঘটনার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, কাজের খোঁজে বাড়ির পাশের মানুষকেই যদি বিশ্বাস করা না যায়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এই ঘটনার পর অচেনা বা আধা-চেনা লোকের কাজের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস না করার জন্য পুলিশও সতর্কবার্তা জারি করেছে। পাশাপাশি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে কোনও বড় মানবপাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না।