রক্ষকই ভক্ষক! থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার বধূ, ধৃত কনস্টেবল, সাসপেন্ড ৫

Housewife Rape Photo-Representative

বিপদে পড়ে এক গৃহবধূ গিয়েছিলেন থানায়। নিরাপত্তা পাবেন ভেবে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ জানাতে গিয়ে থানার মধ্যেই ধর্ষণের শিকার হলেন ওই বধূ বলে অভিযোগ উঠল এক পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়ান জেলার গামহারিয়া থানার এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক কনস্টেবলকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। আর কর্তব্যে গাফিলতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক-সহ আরও পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ডও করা হয় বলে সূত্রের খবর। গত ২৯ অক্টোবর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে সরাইকেলা-খারসওয়ান জেলার গামহারিয়া থানায়।

নির্যাতিতা বধূ লিখিত অভিযোগপত্রে দাবি করেছেন, ওইদিন সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। আশঙ্কা ছিল স্বামী তাঁকে মারধর করতে পারেন। তাই নিজের বাড়ি না ফিরে বধূ এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। তখন একটি পিসিআর ভ্যান আসে। আর বধূকে থানায় নিয়ে আসে। এই পরিস্থিতিতে রাতে থানায় পৌঁছনোর পর বিশ্রাম করার জন্য ওই বধূকে একটি ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ঘরেই থানার এক ওয়্যারলেস অপারেটর তাঁকে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

সরাইকেলার পুলিশ সুপার মনোজ স্বর্গিয়ার এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অনুভব ভরদ্বাজকে। তাঁর তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকী ওই থানার কর্তব্যে গাফিলতি-সহ একাধিক অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক-সহ মোট পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেন পুলিশ সুপার। এই ঘটনার সময় অভিযুক্তের পরনে থাকা পোশাকও বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সেই পোশাক রাঁচির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।


এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ঝাড়খণ্ডে। বিরোধী দল রাজ্য বিজেপির সভাপতি আদিত্য সাহুর অভিযোগ, রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। নিরাপত্তার বদলে পুলিশই আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই এমন ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। বিজেপির ঝাড়খণ্ড রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহুর আরও দাবি, পুলিশের একাংশ ঊর্ধ্বতন কর্তাদের টাকা দিয়ে পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের শাসকগোষ্ঠীর মদতে বালি, কয়লা চুরির মতো বেআইনি কাজেও পুলিশের একাংশ সহযোগিতা করছে।