যন্তরমন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায় বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের একাংশ। এই ঘটনার প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনের ঘোষণা করেছেন। শনিবার তিনি অনশনে বসেছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শনিবার ভোরে সাদা পোশাকে আসা দিল্লি পুলিশের কর্মীরা আচমকা অনশনস্থল থেকে ওয়াংচুককে ধরনামঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশি অভিযানের সময় যাতে কেউ ভিডিও করতে না পারে, সে কারণে পুলিশ কাপড় দিয়ে গোটা অনশনস্থল ঘিরে দেয়।
সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ওয়াংচুককে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের মেডিকযাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন উপবাস ও শরীরে জলশূন্যতার কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও শারীরিক সূচক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নিবিড় নজরদারি ও চিকিৎসার প্রয়োজন।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। একই সঙ্গে যন্তর-মন্তরের আন্দোলনকারীদের ধরনাস্থল খালি করে দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল, অনশনরত ওয়াংচুকের জীবনরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেয়। চিকিৎসকদের রিপোর্টে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও নিদেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের দুদিনের মাথায় দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করালো।
এদিকে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ঘোষণা মত নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার দিল্লিতে জমায়েত ও মিছিল হবে। তাঁর দাবি, ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়া হলেও আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আগের মতোই চলবে।