পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থার পর ফের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ট্যাঙ্কারও। ইতিমধ্যেই তিনটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে দেশে ফিরেছে। এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’ গুজরাতের ভাদিনার বন্দরে এবং ‘নন্দাদেবী’ মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলবাহী ‘জগ লাডকী’ও ভারতে ফিরে এসেছে।
নতুন করে আরও দুটি জাহাজ— ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’ হরমুজ প্রণালী পেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূলে অবস্থানরত এই জাহাজগুলি যাত্রার সঙ্কেত দিয়েছে বলে মেরিন ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গিয়েছে। ‘জগ বসন্ত’ ভাড়া নিয়েছে ভারত পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশন এবং ‘পাইন গ্যাস’ পরিচালনা করছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন।
যদিও কেন্দ্রীয় নৌ-পরিবহন দপ্তরের শীর্ষকর্তারা জানিয়েছেন, এই জাহাজগুলির যাত্রা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত তথ্য মেলেনি। অন্যদিকে বিদেশ দপ্তর জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মোট ২২টি ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ভারতীয় নৌবাহিনী ওই এলাকায় সক্রিয় থেকে নজরদারি চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরেও তৎপরতা চলছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানও কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অন্য দেশগুলির জাহাজের জন্য পথ আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। ফলে এই পথ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। কারণ দেশের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে।
এই পরিস্থিতিতে আটকে থাকা ভারতীয় ট্যাঙ্কারগুলির গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে এলপিজি ট্যাঙ্কারগুলিতে থাকা গ্যাস দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও সঙ্কট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। নজর এখন ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাত্রা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর।