নিজেকে ‘স্বতন্ত্র সনাতনী যোদ্ধা’ বলে দাবি করতেন তিনি। প্রকাশ্য পডকাস্টে (Podcast) বসে এক দলিত ছাত্রীর বাবার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার কথা বুক ফুলিয়ে স্বীকার করেছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশি পদক্ষেপ (Police Action) থেকে কীভাবে বেঁচে গিয়েছেন, তা নিয়েও দম্ভোক্তির অন্ত ছিল না। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। নাবালিকা প্রতিবাদীর বাবাকে মারধর এবং অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি (Rape threats) দেওয়ার অভিযোগে ‘হিন্দুত্ববাদী’ ইনফ্লুয়েন্সার (Hindutva influencer) বা নেট-প্রভাবী স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে (14-day judicial custody) পাঠাল আদালত।
কী ঘটেছিল যন্তর মন্তরে?
ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। নিট (NEET) সহ একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস (Paper leak) বিতর্কের জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party – CJP)। সেই বিক্ষোভে হাজির ছিল এক ১৪ বছরের দলিত ছাত্রী এবং তার বাবা সঞ্জয় কুমার। অভিযোগ, সেখানে বিক্ষোভ চলাকালীন সঞ্জয় কুমারের ওপর চড়াও হন স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। মারধরের জেরে গুরুতর আহত হন সঞ্জয়। যদিও প্রথম দিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, সঞ্জয়ের আঘাত গুরুতর নয়। সেই সময় স্বতন্ত্রকে আটক করা হলেও দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়।
পডকাস্টে দম্ভ এবং বিতর্ক
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ওই ঘটনার উল্লেখ করে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ গর্বের সঙ্গে বলে, ‘আমি মাথাটা ফাটিয়ে দিয়েছিলাম… জানেন, এই অপরাধের জন্য কোন ধারা প্রযোজ্য? ৩০৭ নম্বর ধারা (খুনের চেষ্টা)। লোকটার ৬০টা সেলাই পড়েছিল।‘ তার দাবি, রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাবের কারণেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পকসো এবং SC/ST অ্যাক্টে মামলা
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ১৪ বছরের ওই দলিত ছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় জানায়, স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের অনুগামীরা তাকে অনলাইনে লাগাতার ধর্ষণের হুমকি (Rape threats) দিচ্ছে এবং তার বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরপরই সিজেপি (CJP) এবং আজাদ সমাজ পার্টির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদের (Chandrashekhar Azad) নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় বিক্ষোভ দেখায়। যোগ দেয় কংগ্রেস-সহ অ্য রাজনৈতিক দলগুলিও। প্রবল জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে দিল্লি পুলিশ স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে (FIR) তফশিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (SC/ST Prevention of Atrocities Act) এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর (Criminal Intimidation) ধারা যুক্ত করে। পাশাপাশি, নাবালিকাকে হুমকির অভিযোগে পকসো আইনে (POCSO Act) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে (IT Act) একটি পৃথক এফআইআরও দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তারি এবং ১৪ দিনের জেল হেফাজত
বিক্ষোভের আঁচ পেয়েই পালানোর ছক কষেছিল স্বতন্ত্র। কিন্তু গত শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর (Bulandshahr) থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। প্রথমে তাকে এক দিনের পুলিশ হেফাজত এবং রবিবার এক দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর তাকে ফের দিল্লির আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে (14-day judicial custody) পাঠানোর নির্দেশ দেন। যদিও স্বতন্ত্রের দাবি, যন্তর মন্তরে নাকি সেদিন আত্মরক্ষার্থেই (Self-defence) হাত চালিয়েছিল সে।