আইআইটি বম্বের সাহিল রবীন্দ্র বা আইআইটি দিল্লির ঋষিকেশ কুমার একা নন। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়াশোনা করতে গিয়ে প্রতি ১১ জন পড়ুয়ার মধ্যে অন্তত একজন আত্মহত্যার কথা ভেবেছেন। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের করা সমীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য।
দেশের একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরপর পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনার পরেই বিষয়টি নিয়ে নজর দেয় সুপ্রিম কোর্ট। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগামী ৩১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। তার আগে সমীক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ইতিমধ্যেই দেশের ১৯টি প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৩০টি বৈঠক করেছে টাস্ক ফোর্স। কথা বলেছে প্রায় ২.৪৩ লক্ষ পড়ুয়ার সঙ্গে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে প্রাথমিক রিপোর্ট। আত্মহত্যার চিন্তার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক চাপ, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার মতো একাধিক বিষয়ও উঠে এসেছে সমীক্ষায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৩৪ জন নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আপন করে নিতে পারছেন না। তাঁদের অনেকেরই মনে হচ্ছে, তাঁরা ওই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে বহিরাগত। এই ৩৪ শতাংশ পড়ুয়ার মধ্যে ৬৭ শতাংশ তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণিভুক্ত। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনার অভিযোগ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের উপর আস্থার ক্ষেত্রেও ছবিটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া মাত্র ৫৬ শতাংশ পড়ুয়া মনে করেন, কোনও গুরুতর ঘটনা ঘটলে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে বিষয়টির বিচার করবে। অর্থাৎ, প্রায় ৪৪ শতাংশ পড়ুয়ার সেই আস্থা নেই।
মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও একাধিক ঘাটতি চিহ্নিত করেছে টাস্ক ফোর্স। ৩২ শতাংশ পড়ুয়া জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে মানসিক পরামর্শ বা কাউন্সেলিংয়ের কোনও পরিষেবা নেই। যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানে টাস্ক ফোর্স গিয়েছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশেই পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দেখভালের জন্য পূর্ণ সময়ের কর্মী নেই।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ওই প্রতিষ্ঠানগুলির মাত্র ৪ শতাংশে আত্মহত্যার ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং তা মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম বা ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, পড়ুয়াদের মানসিক বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতি সামলানোর প্রস্তুতিও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখনও সীমিত।
তবে এটিই চূড়ান্ত চিত্র নয়। ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, আরও কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমীক্ষা চলছে। ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও কিছু বিস্তারিত তথ্য এখনও রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে ৩১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়তে চলা চূড়ান্ত রিপোর্টে পরিস্থিতির আরও বিস্তৃত ছবি সামনে আসতে পারে।