হরেলা পার্বণের দিনে হরিদ্বারে চালু হয়ে গেল এক বিশাল ভেষজ উদ্যান, শ্রী ধন্বন্তরি ধাম হার্বাল ওয়ার্ল্ড হিমালয়। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী স্বয়ং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা করেন। যোগগুরু রামদেব এবং পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের নির্দেশক আচার্য বালকৃষ্ণর দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম প্রাণবন্ত হার্বাল উদ্যান, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্তের ভেষজ উদ্ভিদ একত্রিত করা হচ্ছে।
২০০ একরের প্রকল্পে ঠিক কী থাকছে
আচার্য বালকৃষ্ণর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুশো একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই হার্বাল ওয়ার্ল্ডে (Herbal World) থাকছে জড়িবুটি ও ফলের বাগান, পাশাপাশি একটি নলেজ পার্কও (Knowledge Park)। সংস্থার দাবি, এখানে আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা, ইউনানি, চিনা, জাপানি, কোরিয়ান, মিশরীয়, গ্রিক এবং তিব্বতি, এই ন’টি চিকিৎসা পদ্ধতির নিদর্শন এবং বিশ্বের প্রায় ৯৬৪টি চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত তথ্য একত্রিত করা হয়েছে। বালকৃষ্ণর কথায়, এই উদ্যোগ পড়ুয়া, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেই তাঁদের আশা।
রামদেব ও মুখ্যমন্ত্রী ধামীর বক্তব্য
অনুষ্ঠানে রামদেব দাবি করেন, এই উদ্যান শুধু উদ্ভিদের সংগ্রহশালা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও পরিবেশ-সচেতনতার একটি আন্দোলন। মুখ্যমন্ত্রী ধামী এই উদ্যোগকে ভারতের সহস্র বছরের জ্ঞান-ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস বলে অভিহিত করেন। তাঁর কথায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরাখণ্ডকে ভেষজ জ্ঞান, গবেষণা ও ইকো-ইনোভেশনের (Eco-Innovation) আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই লক্ষ্য। সংস্থার তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্প উত্তরাখণ্ডের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলে দেবে।
পশ্চিমবঙ্গের ভেষজ ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
হিমালয়ের কোলে যখন এমন এক বিশাল ভেষজ কেন্দ্র মাথা তুলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব আয়ুর্বেদ ও ভেষজ ঐতিহ্যের কথাও মনে পড়া স্বাভাবিক। হাওড়ার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান বোটানিক গার্ডেন (Indian Botanic Garden) এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালা হিসেবে বহু দশক ধরেই পরিচিত। এ ছাড়া বাংলার নিজস্ব কবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সুন্দরবনের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক ভেষজ সম্পদও রাজ্যের কাছে বিরাট এক সম্ভাবনা। রাজ্যের সরকারি আয়ুর্বেদ কলেজ ও গবেষণাকেন্দ্রগুলিতেও দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা চলছে। হরিদ্বারের এই বৃহৎ বিনিয়োগ-নির্ভর মডেল থেকে শিক্ষা নেবে পশ্চিমবঙ্গও। বদলের বাংলা নিজস্ব ভেষজ ঐতিহ্যকে সংগঠিত গবেষণা ও পর্যটনের আওতায় আনার লক্ষ্যে এগোবে, এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজ্যের উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা।