জম্মু-কাশ্মীরে লাগাতার ভারী তুষারপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন। বরফের সাদা চাদরে ঢেকে গিয়েছে গুলমার্গ, সোনমার্গ, পহেলগামের উপত্যকা। তুষারপাতের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক। ব্যাহত হয়েছে বিমান চলাচল।শ্রীনগর বিমানবন্দরে বিমান চলাচল আপাতত বন্ধ থাকায় আটকা পড়ে রয়েছেন শয়ে শয়ে পর্যটক। এদিকে মঙ্গলবারে সোনমার্গে তুষারধস নেমে আসার পর, বুধবারেও তুষারপাতের জেরে ধস নামে বারবান উপত্যকায়।
মঙ্গলবার রাত সোয়া দশটা নাগাদ সোনমার্গে ভয়াবহ তুষারধস তছনছ করে দেয় পর্যটকদের একটি রিসর্ট। ভয়াবহ সেই ছবি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা তুষারধস এক লহমায় ঢেকে দেয় রিসর্টটিকে। ভেঙে যায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সম্ভবত এই রিসর্টে কোনও পর্যটক ছিলেন না। স্বস্তির বিষয় হল, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
লাগাতার ভারী তুষারপাতের কারণে পাহাড়ের উপর জমে থাকা বরফের বিরাট আকৃতির চাঁই ভেঙে হঠাৎ করে নিচে নেমে আসে। সোনমার্গ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। তুষার ধসে যে বাড়িগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেগুলি আগে থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলকভাবে খালি করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
গত কয়েক দিন ধরেই পাহাড়ের উঁচু এলাকাগুলিতে তুষারপাত হয়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই লোকালয়ে তুষারধস নেমে আসে লোকালয়ে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, বার বার তুষারধসের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। জেলা প্রশাসন থেকে বার বার সতর্ক করা হচ্ছে, ধসপ্রবণ এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার জন্য।
আবহাওয়া দপ্তর আগেই জানিয়েছিল, জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে তুষারপাতের পরিমাণ বাড়বে, বিশেষ করে পাহাড়ের উঁচু এলাকাগুলিতে। সঙ্গে তুষারধসেরও সতর্কতা জারি করা হয়। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কাশ্মীরের গান্দরবল, অনন্তনাগ, বান্দিপোরা, বারামুলা, কুলগাম, কুপওয়ারা জেলায় এবং জম্মুর ডোডা, কিশ্তওয়াড়, পুঞ্চ, রাজৌরি এবং রামবন জেলায় তুষারধসের সম্ভাবনা রয়েছে।১১টি জেলায় তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে। গান্দেরবাল জেলায় ২ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার এলাকাগুলিতে ‘হাই ডেঞ্জার’ তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে।