জমা জল ভেদ করেই ছুটছে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেন, থামেনি শহরের লাইফলাইন

Mumbai Local Train Photo-SNS

প্রবল বর্ষণে কার্যত জলমগ্ন বাণিজ্যনগরী মুম্বাই। শহরের একাধিক নিচু এলাকা হাঁটু থেকে কোমর-সমান জলে ডুবে গেলেও থেমে নেই মুম্বইয়ের জনজীবন। জল জমে যাওয়া রেললাইনের উপর দিয়েই ধীরগতিতে ছুটে চলেছে লোকাল ট্রেন। ঝুঁকি এড়াতে গতি কমানো হলেও পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে। মানুষের সুবিধার্থে লোকাল ট্রেন চালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকালে মুম্বাইয়ের মেট্রো এবং বাস পরিষেবা স্বাভাবিক থাকলেও দেরিতে চলছে লোকাল ট্রেন। তবে লোকাল ট্রেন বড় অংশের মানুষের কাছে লাইফলাইন। তাই পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও লোকাল ট্রেন পরিষেবা অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে শহরের নানা এলাকায় ব্যাপক জল জমেছে। রাস্তার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক রেললাইনের উপরও জল উঠে আসে। তারপরও হাজার হাজার নিত্যযাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে লোকাল ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। অফিসযাত্রী থেকে জরুরি কাজে যাঁরা বেরিয়েছেন তাঁরা লোকাল ট্রেন পরিষেবা পেয়েছেন। অনেক জায়গাতেই ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছে। তবে পরিষেবা অব্যাহত রয়েছে। রাতভর ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বাই এবং তার আশেপাশের এলাকা। বানভাসী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। আবহাওয়া দপ্তর ভারী বৃষ্টির জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। রবিবার দিনভর মুম্বাই ও তার আশেপাশের এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জলমগ্ন রেললাইন ভেদ করেই এগিয়ে চলেছে লোকাল ট্রেন। তবে তা চলছে ধীরগতিতে। সেই দৃশ্য আবার একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন মুম্বাই লোকালকে শহরের ‘লাইফলাইন’ বলা হয়। ভারী বৃষ্টির জেরে বেশ কয়েকটি এলাকায় যানজট, জল জমা এবং জনজীবন বিঘ্নিত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন স্থানীয়দের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ।


রেল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। কোথাও জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ততক্ষণ সতর্কতার সঙ্গে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। বন্যা পরিস্থিতিতে যে কোনও সাহায্যের জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে একটি হেল্পলাইন নম্বর ১৯১৬ চালু করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, রবিবার এবং সোমবার ভোরে সমুদ্রে বড় জোয়ার বা হাই টাইড আসার সম্ভাবনা আছে। নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে থানে, পালঘর, মুম্বাই এবং পুনের জনজীবনও কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।