সুরাতের হস্টেলে উদ্ধার চিকিৎসক-পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ, র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে ৪ সিনিয়র সাসপেন্ড 

File Photo

গুজরাতের সুরাতের সরকারি নিউ সিভিল হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল থেকে এক চিকিৎসক-পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম হর্ষ পাণ্ডিয়া (৩০)। তিনি ওই মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর পড়ুয়া ছিলেন। একইসঙ্গে গত ৬ মাস ধরে নিউ সিভিল হাসপাতালে রেসিডেন্ট চিকিৎসক হিসাবেও কাজ করছিলেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন হর্ষ। তবে তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে র‌্যাগিং এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ সামনে আসায় তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ জন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসককে ৬ মাসের জন্য সাসপেন্ড করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রবিবার হর্ষর হাসপাতালে ডিউটি ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে কাজে না যাওয়ায় এক সিনিয়র চিকিৎসক হর্ষর মোবাইলে ফোন করেন। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় হস্টেলের অন্য এক চিকিৎসককে তাঁর খোঁজ নিতে বলা হয়। হর্ষর ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। ঘরের ভিতরে হর্ষর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা। পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই ঘটনায় সামনে এসেছে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ। সহপাঠী ও জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, হর্ষকে দিনের পর দিন সিনিয়রদের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল। সিনিয়রদের আচরণ নিয়ে সমস্যার কথা পরিবারের কাছেও তিনি জানিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর বাবা সুভাষ পাণ্ডিয়ার। তিনিও পেশায় চিকিৎসক। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনা নিয়ে ছেলের কোনও সমস্যা ছিল না। সম্প্রতি হর্ষর বাগদানও সম্পন্ন হয়।


প্রাথমিক তদন্তে র‌্যাগিং ও হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ সিনিয়র চিকিৎসক নিরালি ভাসাভে, অনুজ মহেশ্বরী, দীক্ষিত ঘেওয়ারিয়া এবং হিনা ভুটনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের হস্টেল ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গুজরাতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসেরিয়া।

‘মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’-এর অতিরিক্ত পরিচালক জয়েশ সচদেবের তত্ত্বাবধানে অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে। হর্ষ হস্টেল বা হাসপাতাল চত্বরে র‌্যাগিং, মানসিক বা শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনও গাফিলতি না রাখার নির্দেশ দিয়ে দ্রুত বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে হস্টেলের অন্য পড়ুয়া ও চিকিৎসকদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে।

হর্ষর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। র‌্যাগিংয়ের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি যোগ ছিল কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে। তবে এক চিকিৎসক-পড়ুয়ার এমন মৃত্যু ঘিরে মেডিক্যাল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক এবং র‌্যাগিং নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

এই প্রতিবেদনটির বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারও মনে যদি আত্মহননের চিন্তা আসে বা কেউ মানসিক ভাবে সংকটে থাকেন, তা হলে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করুন।
Lifeline Foundation
Number: +91 90880 30303 / +91 91639 40404
Hours: 10:00 AM – 10:00 PM daily
Languages: Bengali, Hindi, English
iCALL (TISS)
Number: 022-25521111
Hours: Monday to Saturday, 10:00 AM – 8:00 PM
Languages: Bengali, Hindi, English