দিল্লিতে প্রথম দাতার দুই হাত প্রতিস্থাপন হল চিত্রশিল্পী শরীরে

দিল্লির আগেই করে দেখিয়েছে কলকাতা৷ যদিও তার আগে সর্বপ্রথম করে দেখিয়েছে ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে৷ এবার তাই করে দেখাল দিল্লি৷ বিশ্বে প্রথম হাত প্রতিস্থাপন করে দেখাল দিল্লির স্যর গঙ্গারাম হাসপাতাল৷ এখন প্রশ্ন আগে কলকাতা-ফ্রান্সে হলেও দিল্লিরটাই বিশেষ কেন? আসলে এই প্রথম দাতার হাত প্রতিস্থাপন করা হল অন্য কারুর শরীরে৷

ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই হাতই বাদ যায় এক চিত্রশিল্পীর৷ আর কোনওদিন রঙ-তুলি ধরতে পারবেন না ভেবেই অবসাদে চলে যাচ্ছিলেন বছর পঁয়তাল্লিশের ব্যক্তি৷ কিন্ত্ত চিকিৎসকদের দক্ষতায় নতুন দুই হাত পেলেন চিত্রশিল্পী৷ আবারও ধরলেন রঙ-তুলি৷ দিল্লির ডাক্তারবাবুরা জানিয়েছেন, দাতার থেকে নেওয়া হাতের শিরা-ধমনী, হাড়-মজ্জা-মাংস সব নিখুঁতভাবে জোড়া গিয়েছে৷ দাতার থেকে নেওয়া হাত চিত্রশিল্পীর শরীরে মিলমিশও খেয়েছে৷ নতুন দুই হাত দিয়ে এখন সব কাজই করতে পারবেন শিল্পী৷ ২০২০ সালে ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই হাত বাদ গিয়েছিল৷ চিত্রশিল্পী জানাচ্ছেন, দিল্লির স্যর গঙ্গারাম হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে বলেছিলেন হাত প্রতিস্থাপন সম্ভব৷ শুধু দাতার খোঁজ করতে হবে৷ সে সুযোগও এসে যায়৷ মীনা মেহতা নামে ব্রেন-ডেথ এক রোগীর দুই হাত নিয়েই প্রতিস্থাপন করার কথা ভাবেন ডাক্তাররা৷ দক্ষিণ দিল্লির একটি স্কুলের প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন মীনা৷ তিনি লিখিতভাবেই তাঁর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অনুমতি দিয়ে গিয়েছিলেন৷ মীনার লিভার, কিডনি, হার্ট নেওয়ার পাশাপাশি দুই হাতও প্রতিস্থাপন করার কথা ভাবেন ডাক্তাররা৷ ১২ ঘণ্টার অপারেশনে নিখুঁতভাবে মীনার দুই হাত চিত্রশিল্পীর কাটা হাতের জায়গায় জুডে় দেওয়া হয়৷

মরণোত্তর অঙ্গদানে হূৎপিণ্ড, কিডনি, যকৃৎ, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের কথা শোনা গেলেও, ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া রোগীর হাত অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন করার কথা সচরাচর শোনা যায় না৷ বিশ্বে এখনও পর্যন্ত এর সংখ্যা ১১০টির মতো৷ দেশে সেই সংখ্যা ১৫৷


ডাক্তারবাবুরা বলছেন, শিরা, ধমনী, স্নায়ু ও টেন্ডন (শক্ত ও মোটা তন্ত্ত) সব ঠিকঠাক ভাবে জুড়তে হয়৷ প্লাস্টিক সার্জারি, অর্থোপেডিক, নেফ্রোলজি-সহ অনেকগুলো বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দরকার হয়৷ চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই প্রতিস্থাপনের পরবর্তী অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ, গ্রহীতার শরীর কতটা গ্রহণ করবে, সে দিকে খুব সতর্ক ভাবে খেয়াল রাখতে হয়৷ শরীর যাতে ওই অঙ্গকে প্রত্যাখ্যান না করে, তার জন্য গ্রহীতাকে সারা বছর ইমিউনো থেরাপি নিতে হবে৷ যাতে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়৷ দিল্লির ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ব্রেন ডেথ ঘোষণার এক থেকে দু’ঘণ্টার মধ্যে দাতার থেকে হাত আহরণ করতে হয়৷ তার পরে ছ’ঘণ্টার মধ্যে প্রতিস্থাপন করতে হবে৷ তবে এখন উন্নত প্রযুক্তিতে এখন ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ (হার্ভেস্টিং) করা যাচ্ছে৷