পহেলগাম হামলায় হামাস যোগের ইঙ্গিত, আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে এনআইএ

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে এবার নতুন দিক উঠে এল। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার সূত্র শুধু পাকিস্তানকেন্দ্রিক সংগঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সম্ভাব্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনআইএর সাম্প্রতিক চার্জশিটে এই ‘হামাস–যোগ’ বিষয়টি উল্লেখ থাকায় গোটা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে গোয়েন্দা মহল সূত্রে খবর।

তদন্তের সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার ধরণ, পরিকল্পনার ধরন এবং আক্রমণের কৌশলের সঙ্গে হামাসের অতীতের কার্যপদ্ধতির কিছু মিল পাওয়া গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক যোগের ইঙ্গিতও ধরা পড়ছে। যেমন, হামলার পর পাকিস্তানের মাটিতে হামাসের কয়েকজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতির দাবি উঠছে।

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা এবং তার ছায়া সংগঠন দ্য রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা এবং তৃতীয়ত, লস্করের একাধিক মঞ্চ বা অনুষ্ঠানে হামাসঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে তদন্তকারীরা এখনও সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছননি। পুরো বিষয়টিই এখন যাচাই ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে।


গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে ভয়াবহ হামলায় স্থানীয় এক বাসিন্দাসহ মোট ২৬ জন নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা উপত্যকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার পর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ‘অপারেশন মহাদেব’  শুরু করে, যেখানে একাধিক জঙ্গি নিকেশ করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে লস্কর ও টিআরএফের সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনার কথা সামনে আসে।

তদন্তে উদ্ধার হওয়া ২টি মোবাইল ফোন এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, এর মধ্যে একটি মোবাইল কেনা হয়েছিল পাকিস্তানের করাচির একটি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে। এই ব্যাঙ্কের নাম আগেও একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপ সংক্রান্ত অর্থায়নের তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি অতীতে লস্কর–ই–তৈবার অর্থ সংগ্রহ ও লেনদেনে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি আল-কায়েদা–ঘনিষ্ঠ কিছু সংগঠনের সঙ্গেও এর লেনদেনের সূত্র পাওয়া গেছে বলে তদন্তে দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এখন আর একটি দেশ বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থ, প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ—সবই এখন আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলে। ফলে একটি হামলার তদন্তে একাধিক দেশের সংগঠনের নাম উঠে আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, প্রতিটি ‘যোগসূত্র’ই প্রমাণ নয়—এগুলোকে আরও গভীর তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এই তদন্তে যদি সত্যিই আন্তর্জাতিক সংগঠনের যোগসূত্র প্রমাণিত হয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ার জটিল  পরিস্থিতির মধ্যে এই তদন্ত নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।