রেলমন্ত্রীকে বন্ধ কোচ ফ্যাক্টরি ফের খোলার দাবি হলদিয়ার বিধায়কের

নবান্নে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হলদিয়ার রেল পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং বন্ধ হয়ে থাকা রেল কোচ কারখানা পুনরায় চালুর দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরলেন হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং রেলের পদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজ্যে চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদীপ বিজলি হলদিয়ার দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি তুলে ধরেন। তাঁর অন্যতম দাবি ছিল, হলদিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল কোচ ফ্যাক্টরি পুনরায় চালু করা। তাঁর মতে, এই কারখানা ফের চালু হলে এলাকার শিল্পোন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনই বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

এর পাশাপাশি হলদিয়া থেকে নতুন পাঁচটি ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল হলদিয়া-পুরী সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস চালু করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রেনটি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ হলদিয়া স্টেশন থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে পুরী পৌঁছাবে। এর ফলে পূর্ব মেদিনীপুর ও সংলগ্ন এলাকার পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


বিধায়ক আরও প্রস্তাব দেন, সপ্তাহে দু’দিন করে হলদিয়া-মায়াপুর এক্সপ্রেস, হলদিয়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস, হলদিয়া-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস এবং হলদিয়া-ডানকুনি ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করার। বিশেষ করে হলদিয়া-হাওড়া সুপারফাস্ট ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় হলদিয়া থেকে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হাওড়া থেকে যাত্রা শুরু করবে।

শিল্পনগরী হলদিয়ার সঙ্গে কলকাতা ও হাওড়ার দ্রুত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে হলদিয়া থেকে হাওড়াগামী কয়েকটি লোকাল ট্রেন চললেও গত দেড় বছর ধরে সেগুলির সময়ানুবর্তিতা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ, ট্রেনগুলি নিয়মিত দেরিতে হাওড়া পৌঁছায় এবং ফিরতি পথেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে হলদিয়ায় আসে।

এর ফলে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, কারখানার শ্রমিক এবং নিত্যযাত্রীদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাসভাড়া বৃদ্ধির কারণে বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থাও অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা চালুর দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলি নিয়ে রেলমন্ত্রক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেই আশাবাদী স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। এখন রেল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হলদিয়ার মানুষ।