মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন পুণ্যার্থীরা। ধানবোঝাই একটি নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকের ধাক্কায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৩ জন। রবিবার ভোররাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ ছিনোর রোডে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাস্তায় খাড়া ঢাল থাকায় ভারী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় রাস্তায় পুলিশি ব্যারিকেডও বসানো ছিল। কিন্তু সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় ধানবোঝাই ট্রাকটি। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাল বেয়ে নীচে নেমে মন্দিরের বাইরের দেওয়াল ও প্রবেশদ্বারে সজোরে ধাক্কা মারে ট্রাকটি। সেই সময় রাস্তা দিয়ে হেঁটে মন্দিরে যাচ্ছিলেন বহু পুণ্যার্থী। তাঁদের অনেকে ট্রাকের নীচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পরই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছ’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের শরীরে একাধিক হাড় ভেঙেছে। বাকিরা তুলনামূলকভাবে কম আঘাত পেয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত দুই পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।
কী জানাল পুলিশ-প্রশাসন?
ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন গোয়ালিয়রের এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক ধর্মবীর সিং। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি জানান, বহু পুণ্যার্থী শীতলা মাতা মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। ছিনোরের দিক থেকে আসা রাস্তাটিতে খাড়া ঢাল থাকায় ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয়। সেই রাস্তায় দাঁড় করানো ধানবোঝাই ট্রাকটি আচমকাই পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাল বেয়ে নীচে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেওয়াল ও প্রবেশদ্বারে ধাক্কা মারে।
এই দুর্ঘটনায় একাধিক পুণ্যার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশি ব্যারিকেড থাকা সত্ত্বেও ট্রাকটি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।