গুরুপূর্ণিমায় (Guru Purnima) হরিদ্বারে জমজমাট আয়োজন। পতঞ্জলি যোগপীঠে (Patanjali Yogpeeth) ভক্তদের ঢল। এই পবিত্র তিথিতে যোগগুরু রামদেব (Ramdev) স্পষ্ট বার্তা দিলেন তরুণ প্রজন্মকে। ফিল্মি তারকাদের নয়, নিজের পরিবারকেই আদর্শ মানতে বললেন তিনি।
পুণ্যতিথির পবিত্র অনুষ্ঠান
পতঞ্জলির যোগভবনে এই বিশেষ আয়োজন হয়েছিল। ১১১টি হোমকুণ্ডে মহাযজ্ঞ হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি আচার্যকুলম আবাসিক বিদ্যালয়ে হয়েছে বৈদিক রীতিতে উপনয়ন সংস্কার। মোট ১১৭৬ জন ছাত্রছাত্রী এই সংস্কারে অংশ নিয়েছেন। আচার্য বালকৃষ্ণও (Acharya Balkrishna) অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। গুরু-শিষ্য পরম্পরার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তিনিও।
রামদেবের বার্তা
যোগগুরু রামদেবের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। ফিল্মি তারকাদের সংলাপ বা গান অনুকরণ না করার আর্জি জানান তিনি। তাঁর কথায়, আসল রোল মডেল হওয়া উচিত বাবা-মা, ঠাকুরদা-ঠাকুরমা। রাম, কৃষ্ণ বা শিবের মতো মহাপুরুষদেরও আদর্শ মানার কথা বলেন তিনি। গুরু-শিষ্য পরম্পরাকে কেউ কেউ দাসত্ব বলে সমালোচনা করেন বলে মন্তব্য করেন রামদেব। তাঁর যুক্তি, যাঁরা এমন বলেন, তাঁরাই বরং নানা রকম আসক্তির দাসত্বে জড়িয়ে পড়েন।
আচার্য বালকৃষ্ণের বক্তব্য
আচার্য বালকৃষ্ণ নিজেও বাবা রামদেবের চরণস্পর্শ করে আশীর্বাদ নেন অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, গুরুপূর্ণিমা সদর্থক মনোভাব আর পুরুষার্থের পরিচায়ক পর্ব। তাঁর আহ্বান, মহাপুরুষদের দেখানো পথেই চলা উচিত সকলের। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় শিক্ষা বোর্ডের কার্যকরী সভাপতি এন পি সিংহ। ছিলেন পতঞ্জলি সিভিল সার্ভিস অ্যাকাডেমির প্রধান অবধ ওঝাও।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাসঙ্গিকতা
গুরুপূর্ণিমা পশ্চিমবঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি। বেলুড় মঠ (Belur Math) থেকে শুরু করে রাজ্যের নানা আশ্রমে এই দিন ভক্তদের ঢল নামে। গুরু-শিষ্য পরম্পরার এই ঐতিহ্য বাংলার আধ্যাত্মিক জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পাশাপাশি, পতঞ্জলি এবং যোগগুরু রামদেবের জনপ্রিয়তা গোটা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও আকাশচুম্বী। যোগ আর আয়ুর্বেদ নিয়ে রামদেবের বার্তা তাই রাজ্যের বহু অনুরাগীর কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের সংস্কার আর মূল্যবোধ নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ যেভাবে বাড়ছে, তাতে রামদেবের এই বক্তব্য দেশবাসীর সংসারে ইতিবাচক অনুরণন তুলুক, এটাই কাম্য।