১৮ বছর আগের রায় বহাল রাখল গুজরাত হাইকোর্ট, ৩৮ জনের মৃত্যু এবং ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Image: https://gujarathighcourt.nic.in/

প্রায় ১৮ বছর আগের ভয়াবহ আহমেদাবাদ ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ই বহাল রাখল গুজরাত হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি এ ওয়াই কোগজে এবং বিচারপতি সমীর দাভের ডিভিশন বেঞ্চ ৪৯ জন দোষীর করা সমস্ত আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই বহাল রইল।

২০০৮ সালের ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় মাত্র ৭০ মিনিটের মধ্যে আহমেদাবাদের ২১টি জায়গায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এই হামলায় প্রাণ হারান ৫৬ জন এবং আহত হন ২০০-রও বেশি মানুষ। বিস্ফোরণের অন্যতম লক্ষ্য ছিল শহরের হাসপাতালগুলি। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সেখানেও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শুধু সিভিল হাসপাতালেই প্রাণ হারান ৩৭ জন।

তদন্তে উঠে আসে, এই হামলার পিছনে ছিল জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন বা আইএম। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০০৭-এর শেষের দিকে কেরলের এর্নাকুলমে নিষিদ্ধ সংগঠন স্টুডেন্টস্ ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া বা সিমির একটি গোপন বৈঠকে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল। বিস্ফোরণের কয়েকদিনের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ২৯টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়, যা সময়মতো ফাটলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারত।


এই ঘটনায় আহমেদাবাদ ও সুরাত মিলিয়ে মোট ৩৫টি মামলা দায়ের হয়। তদন্তের পর ৭৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও বিচার চলাকালীন প্রমাণের অভাবে ২৮ জন বেকসুর খালাস হয়ে যান। বাকি ৪৯ জনকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দোষী সাব্যস্ত করে বিশেষ আদালত। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জনের ফাঁসি এবং ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিশেষ আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন দোষীরা। কিন্তু দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, এত বড় জঙ্গি হামলার ক্ষেত্রে বিশেষ আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ নেই। তাই মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দুই ধরনের সাজাই বহাল রাখা হয়েছে।

এই রায়ের পর মামলার আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। দোষীরা চাইলে এখনও দেশের সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন। তবে আপাতত গুজরাত হাইকোর্টের এই রায়কে ২০০৮ সালের অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।