রাত নামতেই একবার, আর ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত বারবার কেঁপে উঠল গুজরাত। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা বেজে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টায় মোট ৯ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ইনস্টিটিউট অব সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কম্পনগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৩.৮ এবং সর্বনিম্ন ২.৭।
সবচেয়ে বেশি কম্পন টের পেয়েছেন রাজকোট জেলার বাসিন্দারা। বিশেষ করে উপলেতা সংলগ্ন একাধিক এলাকায় একের পর এক ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্ক ছড়ায়। তবে কম্পনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় এখনও পর্যন্ত কোথাও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
ইনস্টিটিউট অব সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি হয় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা বেজে ৪৩ মিনিটে। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৩.৩। ওই কম্পনের উৎসস্থল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে রাজকোট জেলার উপলেতা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি অঞ্চলকে। এর পর রাতভর এবং ভোরের দিকে একের পর এক কম্পন অনুভূত হয়।
সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি ধরা পড়ে শুক্রবার সকাল ৬টা বেজে ১৯ মিনিটে। সেই সময় রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৮। সকাল শুরু হওয়ার পরেও আরও কয়েক দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে এলাকা, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।
ইনস্টিটিউট অব সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ-এর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এত ঘন ঘন ভূমিকম্পের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে যেহেতু প্রতিটি কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪-এর নীচে, তাই আপাতত বড় বিপদের আশঙ্কা নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজকোট জেলার একাধিক স্কুল ও কলেজ শুক্রবারের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বহু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রশাসনের তরফেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
লাগাতার এই ভূমিকম্প গুজরাতবাসীর মনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করলেও বিশেষজ্ঞদের আশ্বাস, আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।