চারদিনের ভারত সফরে রয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো। রবিবার অর্থাৎ ২৪ মে দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ‘ভালো খবর’ আসতে চলেছে।পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে রুবিয়ো বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে।
তাঁর দাবি, এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, তা যদি সফল হয় তাহলে শুধু হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে না, বরং সেখানে কোনও ধরনের টোল বা বাধাও থাকবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি রূপরেখা তৈরি করেছি, যা কার্যকর হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব। হরমুজ প্রণালী এবং শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব হয়তো কিছু ভালো খবর পেতে পারে।‘
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে রুবিয়ো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হল ইরান যেন কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। তাঁর অভিযোগ ইরান আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ ধ্বংসের হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের যে কোনও ব্যাখ্যাতেই অবৈধ।‘
রুবিওর এই মন্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প তাঁর সমাজ মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ‘মূলত চূড়ান্ত পর্বে’ পৌঁছেছে। তিনি আরও লেখেন ইজরায়েল এবং অঞ্চলের অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে আলোচনা শেষে সেই অগ্রগতি হয়েছে এবং এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসানের পথ প্রস্তত হতে পারে।
ট্রাম্প এই আলোচনাকে ‘শান্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক’ বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরান আমেরিকার এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান পাল্টা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে।
এদিকে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘প্রচারমূলক অপপ্রচার’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস মার্কো রুবিয়োর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় অঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি বিকৃত করার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের অস্থিতিশীল নীতির দিক থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতে চাইছে। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের বিষয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এসব অভিযোগ মূলত অঞ্চলের বাস্তবতা বিকৃত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনের অস্থিতিশীল নীতির দিক থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা।‘