বিশ্ব জুড়ে ‘জেন-জি’ বিপ্লব: আমস্টারডামে মাইক্রোসফটে বিক্ষোভকারীদের হানা, ফিনল্যান্ডে বিপাকে গুগল

Protestors broke into a Microsoft data center construction site in Amsterdam (Image: X/@AFpost)

এটা প্রতিবাদের মরশুম। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এখন কেবলই ভাঙাগড়ার খেলা। কোথাও তরুণ প্রজন্মের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) বিপ্লবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে সরকার, তো কোথাও সদ্য সমাপ্ত মিড-টার্ম নির্বাচনে (US Midterms 2026) খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার বিশ্বব্যাপী এই সরকার-বিরোধী এবং কর্পোরেট-বিরোধী ক্ষোভের আঁচ এবার সজোরে আছড়ে পড়ল খোদ কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI) এবং টেক-জায়ান্টদের ওপর। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে মাইক্রোসফটের (Microsoft) নির্মীয়মাণ ডেটা সেন্টারে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালাল পরিবেশকর্মী এবং প্যালেস্তাইনপন্থী সংগঠনগুলি। অন্যদিকে ফিনল্যান্ডেও মুখ থুবড়ে পড়েছে গুগলের (Google) বহু কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট।

আমস্টারডামে ক্রেনে উঠে বিক্ষোভ

শুক্রবার আমস্টারডামের প্লিমসলওয়েগে মাইক্রোসফটের ৭৮ মেগাওয়াটের এক নির্মীয়মাণ ডেটা সেন্টারে জোরজবরদস্তি ঢুকে পড়ে একশোরও বেশি বিক্ষোভকারী। ‘গিফ টেগেনগাস’ (Geef Tegengas) এবং ‘এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন’-এর মতো পরিবেশবাদী সংগঠনগুলির এই কর্মীরা সোজা উঠে যায় বিশালাকার ক্রেন এবং স্ক্যাফোল্ডিংয়ের মাথায়। সেখানে ফাটানো হয় রঙিন ধোঁয়ার ফ্লেয়ার। ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বিশাল ব্যানার, যাতে লেখা, ‘এআই নিপাত যাক’, ‘নোংরা ডেটা সেন্টার নিপাত যাক’ এবং ‘গণহত্যায় মদত দিচ্ছে মাইক্রোসফট’।


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলি একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ জল ও বিদ্যুৎ টেনে নিয়ে পরিবেশের বারোটা বাজাচ্ছে, তেমনই কৃত্রিম মেধাকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ এবং অবৈধ নজরদারিতেও ইন্ধন জোগাচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ডাচ পুলিশকে। শেষমেশ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়। জানা গিয়েছে, ইউরোপের অন্তত ১৫টি দেশে একযোগে এই ‘স্টপ ডার্টি ডেটা সেন্টার’ (Stop Dirty Data Centres) আন্দোলন শুরু হয়েছে।<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Protesters broke into a Microsoft data center site in Amsterdam during a demonstration against the facility on the outskirts of the Dutch capital. About 100 people made it onto the construction site https://t.co/JZ35QszJTE https://t.co/YFv7FzQj3i</p>&mdash; Reuters (@Reuters) <a href=”https://x.com/Reuters/status/2118773344438714806?ref_src=twsrc%5Etfw”>November 6, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

ফিনল্যান্ডে বিপাকে গুগল, আটকে গেল প্রজেক্ট

মাইক্রোসফট যখন বিক্ষোভের মুখে, তখন ফিনল্যান্ডে চরম আইনি ও প্রশাসনিক বিপাকে পড়েছে আরেক টেক-জায়ান্ট গুগল। কৃত্রিম মেধার বিস্তারের জন্য ফিনল্যান্ডে ১৩ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা করেছিল তারা। কিন্তু পরিবেশের চূড়ান্ত ছাড়পত্র মেলার আগেই মুহোস এবং ওটানম্যাকি এলাকায় প্রায় আড়াই লক্ষ গাছ কেটে সাফ করে দিয়েছে গুগল। এই খবর সামনে আসতেই ফিনল্যান্ডের প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করেছে। অবিলম্বে গুগলের ডেটা সেন্টারের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘জেন-জি’ বিপ্লব ও সরকার পতনের হিড়িক

আমস্টারডাম বা ফিনল্যান্ডের এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। সমাজতাত্ত্বিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে বলছেন ‘প্রতিবাদের মরশুম’ (Season of protests)। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৩৯টি দেশে আছড়ে পড়েছে এই ‘জেন-জি বিপ্লব’। নেপাল থেকে শুরু করে বুলগেরিয়া, শ্রীলঙ্কা–  একের পর এক দেশে তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল ও রাজপথের লড়াইয়ে পতন ঘটেছে সরকারের। ভারতেও এই মুহূর্তে চলছে এক বিশাল ও অভূতপূর্ব গণ-আন্দোলন, যেখানে ছাত্র ও তরুণরাই প্রধান মুখ।

ধুলোয় মিশে গেলেন ট্রাম্প

প্রতিবাদের এই বিশ্বব্যাপী স্রোত থেকে রেহাই পায়নি মহাশক্তিধর আমেরিকাও। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের মার্কিন মিড-টার্ম নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে সে দেশের ভোটাররা। মার্কিন সেনেট এবং হাউস, উভয় কক্ষেই নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প নিজে ব্যালটে না থাকলেও, এই নির্বাচনকে তিনি নিজের প্রেস্টিজ ফাইট বানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের শোচনীয় হার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিভাজন, আধিপত্যবাদ এবং একনায়কতন্ত্রকে আর রেয়াত করতে রাজি নয় আজকের প্রজন্ম।

আমস্টারডামের ক্রেনে ওঠা তরুণ থেকে শুরু করে আমেরিকার ব্যালট বক্স কিংবা ভারতের রাজপথ, ছবিটা সর্বত্রই এক। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুনিয়া জুড়ে বাজছে প্রতিবাদের দামামা।