গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী হাইওয়ে বিপজ্জনক, ২৩টি ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করল প্রশাসন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

উত্তরাখণ্ডের গাড়োওয়াল পাহাড়ে টানা মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের জেরে বিপদের মুখে গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী হাইওয়ে। উত্তরকাশীর বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সমীক্ষায় উঠে এসেছে আতঙ্কের চিত্র। গত ১৬ বছরে এই দুই হাইওয়েতে নতুন করে ২৩টি ধসপ্রবণ জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে একাধিক স্থানকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গোত্রী হাইওয়ের ধারাসু, নালুপানি, নালুনা, দাবরানি-সহ প্রায় ১৫টি জায়গা ধসপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, যমুনোত্রী হাইওয়ের কল্যাণী ও জঙ্গলচাট্টি-সহ আরও ৮টি জায়গায় নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন আশঙ্কা করছে, চলতি বর্ষা মরসুমে এই সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।

উত্তরকাশীর বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিক শার্দূল গুসাঁই জানান, জুলাই-আগস্টে টানা বৃষ্টির ফলে পুরনো ধসপ্রবণ জায়গাগুলি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, ‘ধারাসু থেকে গঙ্গোত্রীর মধ্যে ১২৮ কিলোমিটার রাস্তায় ১৫টি বিপজ্জনক জায়গা রয়েছে। একইভাবে ধারাসু থেকে যমুনোত্রীর ১০৫ কিলোমিটার রাস্তায় ৮টি জায়গাকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুনভাবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরও হাইওয়ে ব্যবহারকারী পর্যটক, পুণ্যার্থী ও গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর ফলে ধস, হড়পা বান এবং সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, ধারালি ও হর্ষিল গ্রামে সাম্প্রতিক হড়পা বানের ক্ষত এখনও কাটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ‘সরকারি সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এই হাইওয়ে ব্যবহার করছেন, যা বিপদ বাড়াচ্ছে।’ প্রশাসন জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তবে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিতে সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।