উর্দু শিশুসাহিত্যের পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর প্রমোশন অব উর্দু ল্যাঙ্গুয়েজ তথা এনসিপিইউএল। স্বায়ত্তশাসিত এই সংস্থা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন। তরুণ পাঠকদের আকৃষ্ট করতে এই প্রকল্পে আলংকারিক বইয়ের সিরিজ প্রকাশ করা হবে। উর্দু ভাষার সঙ্গে মনের সংযোগ গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই উদ্যোগ ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রচারে জোর দেয়।
দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধুনিক চিন্তাকে তুলে ধরতে সচিত্র ৫৬টি গল্পের বই প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পে। এই সমস্ত বইয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি এবং সমকালীন জীবনের বিষয়বস্তু নিয়ে গল্প রয়েছে, যেমন ‘প্রেম দিৱাণী মীরা বাঈ’, মহারাষ্ট্রের হাজার বছরের পুরোনো পলখি উৎসব, ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য যেমন লেজিম, দিল্লির ‘ফুলওয়ালোঁ কি সায়র’-এর ইতিহাস। এছাড়াও রয়েছে স্কুলগুলোতে এআই এবং রোবোটিক্সের উপর গবেষণা সংক্রান্ত বই৷ এই বইগুলি তৈরি হচ্ছে ৮ থেকে ১২ এবং ১২ থেকে ১৮ বছরের পড়ুয়াদের জন্য। ইতিমধ্যে ২২টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
এনসিপিইউএল-এর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শামস ইকবাল বলেছেন, ‘ দীর্ঘসময় ধরে উর্দু শিশু সাহিত্যে প্রাধান্য পেয়েছে পারস্য ও আরবি ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত কাহিনী। ভারতীয় সংস্কৃতির ধারা এইসব কাহিনীতে অনুপস্থিত ছিল। আমাদের লক্ষ্য হল উর্দু গল্পকথনকে আমাদের নিজস্ব মাটির কাছাকাছি নিয়ে আসা, যেখানে আমাদের চারপাশের জীবন, আমাদের উৎসব, ও বীরদের গাথা তুলে ধরা হয় । এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেটাই বদলানোর চেষ্টা চলছে যাতে শিশুরা নিজেদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে এই ভাষার সংযোগ স্থাপন করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের মতো বহু ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে প্রতিটি শিশুরই নিজের সংস্কৃতি, উৎসব ও বাস্তব জীবনের গল্প নিজের ভাষায় পাওয়া জরুরি। এভাবেই উর্দু ভাষা নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।’ এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট উর্দু লেখকরা। সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত জাকিয়া মাশহাদি, অধ্যাপক ইজাজ আলি আরশাদ, নাইমা জাফরি পাশা, শিশু সাহিত্যিক মহম্মদ সিরাজ আজিম ও ইকবাল বারকি প্রমুখ।
এই প্রথম উর্দু ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স-নির্ভর শিশু সাহিত্যও। গল্পের মাধ্যমে শেখানো হচ্ছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের দায়িত্বশীলতা, এআই-এর নৈতিক দিক এবং প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব। সম্প্রতি এনসিপিইউএল শিশুদের নিয়ে এক কর্মশালারও আয়োজন করে, যেখানে ৮ থেকে ১৮ বছরের পাঠকরা বইয়ের খসড়া পড়ে মতামত দেয়। সেই মতামতই যুক্ত করা হয়েছে চূড়ান্ত সংস্করণে।