হাতকড়া থেকে শুল্ক, ট্রাম্প-মোদীর বৈঠকে নজর সারা বিশ্বের

আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর তুলসী গাবার্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ওয়াশিংটন, ১৩ ফেব্রুয়ারি— ফ্রান্সের পর দুই দিনের আমেরিকা সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু’দিনের মার্কিন সফরে একাধিক কর্মসূচির মধ্যে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে। এর আগে চলতি মাসের ৭ তারিখ ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ট্রাম্পের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফর ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অংশীদারিত্বকে কীভাবে দেখবে তারও প্রতিফলন। এই সফরে মোদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়ী এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাও করবেন। পাশাপাশি এলন মাস্কের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতীয় সময়ের হিসেবে বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এটাই মোদীর প্রথম মার্কিন সফর। সম্প্রতি আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসীদের শেকল ও হাতকড়া পরিয়ে ভারত ফেরত পাঠানোর বিতর্ক এবং ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি নিয়ে মোদীর এই সফর আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে কর নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, কর নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা তিনি জারি করতে চলেছেন। মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের দিনেই হোয়াইট হাউস থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় হবে ঘোষণা।

ট্রাম্প আগেই পারস্পরিক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর অর্থ হল, যে দেশ আমেরিকার পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করবে, সেই দেশের পণ্যের উপরেও পাল্টা কর আরোপ করবে আমেরিকা। চলতি সপ্তাহের এই শুল্কের বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প।


ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কোনও দেশকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কোন কোন দেশের উপর ট্রাম্প এই কর চাপাবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভারতকেও ট্রাম্প প্রশাসনের কোপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ এর আগে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য এবং করের পরিমাণ নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

চার দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছেন মোদী। ফ্রান্সের পর আমেরিকা পৌঁছন বৃহস্পতিবার। শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা মোদীর। শুল্ক এবং বাণিজ্য নীতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।মোদীর কাছে এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক নিয়ে কথা বলা। সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আমেরিকায় স্টিল ও অ্যালিমিনিয়াম রপ্তানি করতে গেলে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। অভিবাসী ইস্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগ, শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তির মতো বিষয়েও কথা হতে পারে। এছাড়াও ইন্দো-প্যাসিফিক পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প-মোদির মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার উন্নয়ন নিয়েও কথা হতে পারে তাঁদের মধ্যে।

মোদী থাকছেন ব্লেয়ার হাউসে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অতিথি নিবাস আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত। ব্লেয়ার হাউসে মোদীকে স্বাগত জানান ইন্দো-আমেরিকান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেও শয়ে শয়ে মানুষ উপস্থিত হন সেখানে।

ওয়াশিংটনে পৌঁছে মোদী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে ভারত-মার্কিন আলোচনায় বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। দেশের জনগণের সুবিধের কথা ভেবে উন্নত ভবিষ্যতের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব।’