মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ এক নতুন আশার দিশা: প্রধানমন্ত্রী মোদী

বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে বাজেট পেশ করবেন। তার আগে বাজেট অধিবেশনের তাৎপর্য ও সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ গোটা অধিবেশনের জন্য দিশা দেখিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে দেশ ও সংসদের কাছ থেকে যে প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে, তা পূরণে সকল সাংসদ গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস। বাজেট অধিবেশনকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সময়টা সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। দেশ আজ সমস্যার সমাধানের পথে এগোচ্ছে। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে এসে রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করতে হবে।”

সরকারের কাজের ধারা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “রিফর্ম, পারফর্ম এবং ট্রান্সফর্ম—এই তিনটি স্তম্ভের উপর আমাদের সরকার দাঁড়িয়ে। আমরা সংস্কার করেছি, কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছি। ঈশ্বরের আশীর্বাদে দেশকে রূপান্তরের পথেও এগিয়ে নিয়ে যাব।” তাঁর কথায়, দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার জায়গা নিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান, আর প্রতিটি সিদ্ধান্তই মানুষকেন্দ্রিক।


গণতন্ত্রে বিরোধিতা স্বাভাবিক হলেও সরকারের লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত কাজের মাধ্যমে ফল দেওয়া—এ কথাও স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও বৈচিত্র্য বিশ্ববাসীর কাছে অনুপ্রেরণা।

আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবর্ষের শুরুতেই ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াবে এবং বিশেষভাবে উপকৃত হবে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্র। কৃষক, মৎস্যজীবী ও শিল্পোদ্যোগীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে বলেও তিনি জানান।

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের লক্ষ্য অর্জনে আগামী ২৫ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছেন নির্মলা সীতারামন, যিনি টানা নবমবার সংসদে বাজেট পেশ করে নজির গড়তে চলেছেন।