ঘর সামলাতে অস্থিরতা ছ’মাসে ইস্তফা বিজেপি’র চার মুখ্যমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি (Photo: SNS)

গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপাণী শনিবার আচমকাই পদত্যাগ করেন। গুজরাত বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে আগামী বছর, সেকথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী পদে পরিবর্তন আনল বিজেপি। অনেকটা যেন নিশব্দে বিপ্লব। বিজেপি’র অন্দরে ঘটল। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির নিজের রাজ্যে ভােটে বিজেপি খারাপ ফল করলে তার প্রভাব পড়বে গােটা দেশে। বিজেপি’র কাছে এটা নিঃসন্দেহে প্রেস্টিজ ফাইট।

সেকারণে অনেক দিক খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে রুপাণীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করল বিজেপি। তবে, এটাই প্রথম নয়, বিজেপির রাজনীতিতে এই ট্র্যাডিশন রয়েছে। এরজন্য অবশ্য অতীত ঘাঁটতে হবে না। জুলাই মাসে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা ইস্তফা দিয়েছিলেন।

উত্তরাখণ্ডে মাত্র চার মাসের মধ্যে ইস্তফা দিয়েছিলেন দুই মুখ্যমন্ত্রী। এদের একজন হলেন ত্রিবেন্দ্র রাওয়াত, অন্যজন তিরথনাথ সিং। আগামী বছর উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই স্বাভাবিকভাবে আগামীর কথা ভেবেই বিজেপি একের পর এক মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল আনছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা এবং তার ছেলের ওপর ওই রাজ্যের বিজেপি’রই সিংহভাগ নেতা ক্ষুব্ধ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তদ্বির করছিলেন ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য। ঠিক একইভাবে উত্তরাখণ্ডে ত্রিবেন্দ্র রাওয়াতকেও বিজেপি সরিয়ে দিতে। বাধ্য হয়েছিলেন গােষ্ঠীকোন্দলের কারণে।

সেই সঙ্গে তিরথনাথের বিভিন্ন মন্তব্য রাজ্যের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। তিনি তাে সংবাদমাধ্যমের কাছে একবার বলেই ফেললেন, ব্রিটেন নয় , আমেরিকা ভারতকে শাসন করেছিল ২০০ বছর ধরে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যােগী আদিত্যনাথকেও সরিয়ে দেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে এনিয়েও বিস্তর জল ঘােলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে অভিযােগ ছিল দলের অভ্যন্তরে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা। অভিযােগ করেছিল, যােগী সহজে কোনও বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে দেখা করেন না এবং তাঁদের পাত্তাও দিতে চান না।

এরপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিজেপি’র প্রবীণ নেতা বি এল সন্তোষ এবং রাধামােহন সিংকে উত্তরপ্রদেশে পাঠায়। তারা দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে রিপাের্ট জমা দেন। যােগীকেও দিল্লিতে ডেকে পাঠানাে হয়।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি এবং অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন। এরপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বার্তা দেওয়া হয় যােগীকে রেখেই উত্মপ্রদেশ বিধানসভা ভােটে লড়বে বিজেপি। ফলে ২০২৪ লােকসভা নির্বাচন এবং তার আগে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এগােতে চাইছে বিজেপি।

কারণ কোনও রাজ্যে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়া মানেই তার সরাসরি প্রভাব পড়বে লােকসভা নির্বাচনে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, উত্তরাখণ্ড ছাড়াও আরও কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে আগামী বছর। কথায় বলে, উত্তরপ্রদেশ যার, কেন্দ্রে তার পাল্লা ভারি। তাই স্বাভাকিভাবে বিজেপি কোনও ভাবেই চাইবে না উত্তরপ্রদেশে খারাপ ফল করতে।

একইভাবে গুজরাত মােদি-অমিত শাহদের রাজনীতির আঁতুরঘর। এই দুই রাজ্যে বিজেপি ব্যাকফুটে চলে যাওয়া মানে কেন্দ্রে সরকার গড়া থেকে পিছিয়ে যাওয়া। তাই স্বাভাবিকভাবে অনেক অঙ্ক কযেই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল আনল বিজেপি। রুপাণীর আগে আনন্দবেন প্যাটেল ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাকে সরিয়ে রুপাণীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়।