মোদীর আমন্ত্রণপত্র নিয়ে ঢাকায যাচ্ছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রী

বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে বাংলাদেশ। দিল্লি চাইছে, শপথের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ভারত সফরে আসুন। এই উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণপত্র নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রী।

তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদী আমন্ত্রিত থাকলেও দিল্লি ও মুম্বইয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্যস্ত থাকায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বিক্রম মিশ্রী। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় বর্মা  ইতিমধ্যেই তারেকের কাছে মোদীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মোদী সামাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান এবং ফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে শপথের পর ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও  ইসলামাবাদ সফরের আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও বেজিং সফরের আমন্ত্রণ জানানোয় কূটনৈতিক মহলে জল্পনা—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান প্রথমে কোন দেশে যাবেন? ঢাকার একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই জটিলতা এড়াতে তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোন দেশ অথবা আমেরিকার সফরে প্রথমে যেতে পারেন।


গত আঠারো মাসে অন্তর্বর্তী সরকারে সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কাটাতে আগ্রহী দিল্লি। সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকে গঙ্গার জল চুক্তির পুনর্নবীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। ৩০ বছর আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই দেশের প্রশাসনিক ও কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা এগিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির নবীকরণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তবে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, তাঁর সরকারের বিদেশনীতি হবে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থনির্ভর। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের মূল মন্ত্র—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।