ভয়াবহ বিপর্যয়ের রেশ কাটেনি, ফের বন্যার আশঙ্কা নেপালে, ভোটে কোশীতে হাই অ্যালার্ট

Image: IANS

এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি নেপাল। এর মধ্যেই ফের বড়সড় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য নদী ভোটে কোশীতে জলপ্রবাহ আচমকা বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ। নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার নেপালের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ ভোটে কোশী নদী নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রসুয়া জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগজনক খবর পাওয়া গিয়েছে। নদীতে জলের স্রোত এবং গর্জনের শব্দ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 


 

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রসুয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং জেলার নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। নদীর কাছাকাছি বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নয়, উদ্ধারকারীদেরও সতর্ক করেছে প্রশাসন। নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার পরবর্তী বার্তায় জানানো হয়েছে, ভোটে কোশীর স্রোতের গতি দ্রুত বাড়ছে। ফলে যে কোনও সময় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান এবং সংলগ্ন এলাকায় উদ্ধারকাজে থাকা ভারতীয় ও নেপালি উদ্ধারকারী দল এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নদী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 

এই নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ এবং বিশাল শিলাখণ্ড ধসের ঘটনায় ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে নেপাল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১ হয়েছে। নেপালে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬৭৫ জনের। তিব্বত সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৬ জন।

বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনে, শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৬৩ জন বিদেশি পর্যটক ও নাগরিক রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় এখনও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দল।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধারসামগ্রী নিয়ে ভারত থেকে চতুর্থ বিমান রবিবার কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সি-১৩০জে হারকিউলিস বিমানে প্রায় ১১ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। পরে সেগুলি নেপাল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ভারতের পাঠানো সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য সেনার বিশেষ ‘টানেল টেকনিক্যাল টিম’ এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি। মৃতদেহের পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বিশেষজ্ঞ ফরেনসিক দলও। এর পাশাপাশি কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, ত্রিপল, প্লাস্টিক শিট এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের একাধিক গ্রামকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া সেই জলপ্রলয়ের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই ভোটে কোশীর জলস্ফীতি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। উদ্ধারকাজ চলার মাঝেই ফের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নেপালজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।