সংঘাতের আবহে হরমুজ পেরিয়ে মুম্বাইয়ে প্রথম তেলবাহী জাহাজ

পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ পেরিয়ে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে পৌঁছেছে একটি তেলবাহী জাহাজ। আমেরিকা–ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনও তেলবাহী জাহাজ ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পেরিয়ে নিরাপদে ভারতে এল। ফলে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’ নামের এই ট্যাঙ্কারটি বুধবার দুপুর নাগাদ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছয় এবং সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ নোঙর করে। বন্দরের আধিকারিক প্রবীণ সিংহ জানিয়েছেন, জাহাজটি জওহর দ্বীপ তেলঘাটে দাঁড়িয়েছে এবং সেখান থেকেই তেল নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে মোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে। এই তেল মুম্বাইয়ের পূর্বাঞ্চলের মাহুল এলাকার শোধনাগারে পাঠানো হবে।

সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপর নজরদারি চালানো সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট ইনটেলিজেন্স’ এবং ‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে গত ১ মার্চ তেল বোঝাই করে জাহাজটি রওনা দেয়। ৩ মার্চ যাত্রা শুরু করার পর ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে শেষবারের মতো জাহাজটির সংকেত ধরা পড়ে। এরপর কিছু সময়ের জন্য সেটি রাডারের বাইরে চলে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে জাহাজটির স্বয়ংক্রিয় পরিচয় সম্প্রচার ব্যবস্থা বা এআইএস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ৯ মার্চ আবার সেই সংকেত শনাক্ত করা যায় এবং পরে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর হয়ে জাহাজটি ভারতের দিকে
এগিয়ে আসে।


জাহাজটিতে নাবিক ও কর্মী মিলিয়ে মোট ২৯ জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি পাকিস্তান ও ফিলিপিন্সের নাগরিকও রয়েছেন। জাহাজটির মালিকানা রয়েছে এথেন্সের সংস্থা ‘ডায়নাকম ট্যাঙ্কার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড’-এর হাতে। জাহাজের ক্যাপ্টেনও একজন ভারতীয় বলে জানা গিয়েছে। পুরো তেল নামানোর কাজ শেষ করতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে বন্দর সূত্রে খবর।

এই ট্যাঙ্কার মুম্বাই বন্দরে পৌঁছনোয় কয়েক দিনের জন্য ভারতে তেলের জোগান সুনিশ্চিত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও হরমুজ প্রণালীতে হামলার আশঙ্কায় সমুদ্রে আটকে রয়েছে ভারতের অন্তত ২৮টি জাহাজ। সম্প্রতি একই জলপথে আরেকটি ভারতগামী পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যাতে আগুন ধরে যায় এবং কয়েক জন নাবিক নিখোঁজ হন। ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহনের এই জলপথে জাহাজ চলাচল এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে।