বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। একই সময়ে কাছের ইন্ডিয়া গেট এলাকাতেও জমায়েত শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে এবং লাঠিচার্জও করে। এর পরেও দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ২ জন এসিপি এবং ৪ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এসিপি বিবেক ভগতকে রাতেই রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর মাথার পিছনের দিকে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালশিটে পড়ে যায়। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার পর তাঁর কান থেকে রক্ত পড়েছিল এবং বমিও হয়। পরে তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী এইমসে যাওয়ার জন্য তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিজেপি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, তাঁদের আন্দোলন গত এক মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকে দুর্বল করতে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিজেপির লোকেরাই পাথর ছুঁড়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মুম্বাইতেও বিক্ষোভ চলাকালীন একটি ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, আটক কয়েকজন পড়ুয়াকে একটি পুলিশ ভ্যানের ভিতরে এক পুলিশকর্মী মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশকর্মী পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলছেন, ফের আন্দোলনে অংশ নিলে তাঁদের ব্যাগে মাদক ঢুকিয়ে মামলা দেওয়া হবে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর মুম্বাই পুলিশ ওই পুলিশকর্মীকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে তুলে ধরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদী ছাত্রদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, মুম্বাইয়ে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর নজরদারি নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, কয়েকজন পড়ুয়ার কাছে পুলিশ ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে বিক্ষোভে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কোথাও কোথাও অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, তরুণদের ভবিষ্যতে যাতে কোনও ফৌজদারি মামলার কারণে সমস্যা না হয় সেই কারণেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এখন শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নেই। দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং মুম্বাইয়ের বিতর্কিত ভিডিও—সব মিলিয়ে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েই চলেছে।