৬০০ আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর, লাঠিচার্জে চাপে হেমন্ত সরকার 

Photo: ANI

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামানের ব্যবহার ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত। এবার সেই আবহেই ঝাড়খণ্ডে ফের চড়ল উত্তেজনার পারদ। বিধানসভা অভিযানের ঘটনায় এবার প্রায় ৬০০ আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের নাম নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৫০০ জন ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বিক্ষোভকারী। নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ অমান্য, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ আগস্ট। জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিল এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে টানা ২০ দিন ধরে অবস্থান করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক সিবিআই অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। সেই দাবিতে বিধানসভা অভিযানে নামতেই পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে যায়।

বিধানসভার দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে ব্যারিকেডে আটকে দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের। এরপরেই পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ যথেচ্ছভাবে পাথর ছুঁড়েছিল, হামলা চালানো হয় পুলিশকর্মীদের উপর। পাল্টা আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতেই নির্বিচারে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং আন্দোলনকারী আহত হন।


এরপরেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বন্‌ধ ডাকে বিজেপি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস হুঁশিয়ারি দেন, ৭ দিনের মধ্যে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ না দিলে তিনি অনশনে বসবেন। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের আবগারি কনস্টেবল নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষায় মৃত ১৯ জনের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন তিনি। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের ১ হাজার ২০০ টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এবিভিপিও।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেসের অন্দরেও। ঝাড়খণ্ডে হেমন্ত সোরেনের জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক কংগ্রেস। অথচ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যেই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার পড়ুয়াদের রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা উচিত। ফলে বিরোধীদের আক্রমণের পাশাপাশি জোটের অন্দরেও চাপ বাড়ছে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর।

আরও পড়ুন: ফুকেট-দিল্লি রুটে বিমানের পাইলটের মাদক পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ, এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

এদিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো লাঠিচার্জে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। টানা অনশন চালিয়ে যাওয়া এই ছাত্রনেতা ফের আন্দোলনস্থলে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। অন্য আন্দোলনকারী প্রেম নায়কেরও ঘোষণা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। ফলে লাঠির ঘা, এফআইআর এবং রাজনৈতিক চাপ—তিন দিক থেকেই ক্রমশ চাপে পড়ছে ঝাড়খণ্ড সরকার। সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাধিক বৈঠক হলেও এখনও মেলেনি সমাধানসূত্র। ফলে নিয়োগ-অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন আপাতত আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।