ভদোদরায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

ভাদোদরা, ১৯ জানুয়ারি – ভদোদরায় স্কুলের পিকনিকে নৌকাডুবিতে ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ও বহু লোক আহত হয়েছেন। এই ঘটনার একদিন পর ১৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। অভিযুক্তরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। স্থানীয় হর্নি থানার পুলিশ জানিয়েছে, কোটিয়া প্রকল্পের লেক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার ও কর্মীদের চূড়ান্ত গাফিলতির জন্য এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, নৌকাটি বহন ক্ষমতার থেকে প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী বহন করছিল। দুর্ঘটনার সময় নৌকায় ২৭ জন যাত্রী ছিলেন। অথচ এই নৌকাটির বহন ক্ষমতা মাত্র ১৪ জন। শুধু তাই নয়, নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের গায়ে লাইফ জ্যাকেট থাকার কথা। কিন্তু ঘটনার সময় তাঁদের গায়ে কোনও লাইফ জ্যাকেট বা অন্য কোনও আপৎকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

প্রসঙ্গত গতকাল বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারি “নিউ সানরাইজ” স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা সহ মোট ৮০ জনের একটি টিম ভদোদরায় পিকনিকে গিয়েছিল। তার মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু ও অনেকে আহত হন। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পড়ুয়া ছিল। যার মধ্যে সাতটি মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে ছিল। তাদের বয়স ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। এছাড়া জলে ডুবে ২ জন শিক্ষকেরও মৃত্যু হয়। তাঁদের একজনের বয়স ৫২ ও অন্যজনের বয়স ৫৬ বছর।


এই ঘটনায় রাজ্যের বিরোধীদল দাবি করেছে, আদালতের তত্ত্বাবধানে ঘটনার তদন্ত করা হোক। ভদোদরা পুরসভার বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। গুজরাট বিধানসভার বিরোধী দলনেতা অমি রাওয়াত এই বোটিং ব্যবস্থা একটি ব্যক্তিগত সংস্থাকে বরাত দেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল ভদোদরা হাসপাতালে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে চার লক্ষ এবং আহতদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ত্রাণ তহবিল থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বলা হয়েছে, মৃতদের মাথা পিছু দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।