এক ক্লিকেই হাজির ফিঙ্গার প্রিন্ট সহ ২২ হাজার জঙ্গি

দিল্লি, ৫ ফেব্রুয়ারি– আঙ্গুলের ছাপেই এবার কুপকাত কুখ্যাত জঙ্গিও৷ তাদের ধরতে এবার এমন উপায় বার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ, যা যে কোন জঙ্গি ধরতে মোক্ষম উপায় প্রমাণিত হবে৷ এবার থেকে জঙ্গির হাতের/আঙ্গুলের ছাপই তাকে পৃথিবীর যেকোন স্থান থেকে খুঁজে বার করে দেবে৷ তার জন্য দরকার হবে শুধুমাত্র একটা ক্লিক৷

বিভিন্ন দেশে নাশকতার পর জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া ফিঙ্গার প্রিন্টের নমুনা থেকে ডেটাবেস তৈরি হচ্ছে৷ আঙুলের ছাপই সন্ত্রাসবাদীদের ধরতে সাহায্য করবে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা৷ কোনও জায়গায় নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে কোন জঙ্গি গোষ্ঠী এর জন্য দায়ী বা কোন জঙ্গি সেই অপরাধ সংঘটিত করেছে, তা জানা যাবে কম্পিউটার অ্যালগোরিদম থেকেই৷ এর জন্য জঙ্গিদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংরক্ষণ করছে এনআইএ৷ কোন জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান কে, কোন জঙ্গি সংগঠন কোথায় অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা করছে তা জানতেই এই প্রযুক্তিতে কাজে লাগানো যাবে বলে জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা৷ তাঁরা বলছেন, বিভিন্ন দেশে ছডি়য়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন৷ তাদের হ্যান্ডলাররাও নানা দেশে ছডি়য়ে৷ সংগঠনের মদতেই তারা নানা জায়গায় নাশকতা চালাচ্ছে বা নাশকতার ছক কষছে৷ এইসব জঙ্গিদের ছবি, নাশকতার নানা ভিডিও, আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করে সেইসব দেশ বা রাজ্য৷ সেই তথ্য একসাথে পাওয়া সম্ভব হয় না৷ কিন্ত্ত কম্পিউটার অ্যালগোরিদমের সাহায্যে ফিঙ্গার প্রিন্টের ডেটাবেস তৈরি করতে পারলে তা এক ক্লিকেই পাওয়া সম্ভব৷ ভারতের যেকোনও জায়গায় জঙ্গি অপারেশনের পর এক ক্লিকেই বলে দেওয়া সম্ভব, সেই নাশকতায় জড়িত কারা৷
এনআইএ জানাচ্ছে, যে ডেটাবেস তৈরি হয়েছে এখনও অবধি, তাতে এক ক্লিকেই ২২ হাজার জঙ্গি ও তাদের সংগঠনের নাম সামনে চলে আসবে৷ আমেরিকার গ্লোবাল টেররিজম ডেটাবেসের ধাঁচে ন্যাশনাল টেররিজম ডেটা ফিউশন অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেন্টার তৈরি করা হয়েছে৷ সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে বা দেশে সন্ত্রাসবাদের নানা ঘটনা, ভিডিও, জঙ্গিদের নাম, তাদের সংগঠনের নাম, হামলায় কোন সংগঠনের হ্যান্ডলার জডি়ত, তাদের আঙুলের ছাপ প্রভৃতি সংরক্ষণ করা থাকছে৷ একশো বছর আগে এক ইংরেজ আধিকারিক উইলিয়াম হার্সেল এবং তাঁর দুই বাঙালি সহযোগী আজিজুল হক ও হেমচন্দ্র বসুর তত্ত্বাবধানে আজকের মহাকরণের একটি অংশে গবেষণা ও কর্মদ্যোগের যে সূচনা হয়েছিল, বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আজ সমগ্র পৃথিবীতে তা ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট’ পরীক্ষা বলে স্বীকৃত ও পরিচিত৷ সারাবিশ্বের অপরাধ বিজ্ঞান, শনাক্তকরণ, দলিলপত্র পরীক্ষা ও পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির ভূমিকা আজ অপরিহার্য৷ ১৮৭৮ সালের ১২ জানুয়ারি সরকারি ভাবে বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম ভারতে বাংলার ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ ফিঙ্গার প্রিন্টের মুখ্য কার্যালয় হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুমোদন পেয়েছিল৷