বর্ষাকালীন খরিফ ফসলের মরশুমে তামিলনাড়ুতে সারের সঙ্কট তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি—এই তিনটি প্রধান সারের ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়।
এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় উল্লেখ করেছেন, এপ্রিল ও মে মাসে রাজ্যে সারের সরবরাহে গুরুতর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি এবং মিউরেট অফ পটাশ বা এমওপি-র পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, ২০২৬-এ খরিফ মরশুমের বাকি সময়ের জন্য তামিলনাড়ুর প্রয়োজন প্রায় ৩.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১.০৫ লক্ষ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ০.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন এমওপি। দ্রুত এই পরিমাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের কৃষি দপ্তরের সঙ্গে সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, নির্ধারিত বরাদ্দের তুলনায় তামিলনাড়ু ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ২৮ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি এবং ২৪ হাজার মেট্রিক টন এমওপি কম পেয়েছে।
এই ঘাটতির ফলে খরিফ মরশুমে বীজ বপনের ক্ষেত্রে এবং চাষাবাদে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সার না পৌঁছালে ধান-সহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ভারতে সার আমদানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে এই প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটায় আমদানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তামিলনাড়ুই নয়, দেশের অন্যান্য কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলিও এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। ফলে দ্রুত কেন্দ্র-রাজ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।