মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে পেন্টহাউসে বাণিজ্যিক কাজকর্ম ঘিরে লাগাতার অশান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শম্পা পাণ্ডে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই মর্মান্তিক পরিণতি। বিবাদের জেরে গাড়িচাপায় মৃত্যু হল তাঁর। গত ২৬ মার্চ শিব বাটিকা টাউনশিপে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, পেন্টহাউস থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ করায় শম্পা পাণ্ডের সঙ্গে বচসা বাধে অভিযুক্তদের। সেই সময়ই গাড়ি চালিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মৃতার স্বামী সৌরভ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ‘পেন্টহাউসের বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে, বিশেষ করে রাতের বেলা যে অশান্তি হতো, তাতে শম্পা খুবই বিরক্ত ছিলেন। তাই আমরা ফ্ল্যাট বিক্রি করে অন্য জায়গায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। নতুন একটি ফ্ল্যাটও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।’ তিনি আরও জানান, নতুন ফ্ল্যাট কেনার জন্য খোঁজখবরও শুরু হয়ে গিয়েছিল। একটি জায়গা প্রায় ঠিকও হয়ে গিয়েছিল। তবে অগ্রিম দেওয়ার বিষয়টি পরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কুলদীপ চৌধুরী ও তাঁর ১৮ বছরের ছেলে মোহনিশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর তাঁদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্ত চালানো হয়। সেখানে উপস্থিত আবাসনের বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগ, ঘটনার দিন রাতে বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসার পর কুলদীপ চৌধুরী তাঁর ছেলেকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। পরে পরিবারের সদস্যরা গাড়িতে উঠে বসেন। মোহনিশ গাড়ি চালিয়ে বাসিন্দাদের দিকে ধেয়ে যান। অনেকে সরে যেতে পারলেও শম্পা পাণ্ডে পালাতে পারেননি। গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, ইন্দোর পুরনিগমের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আবাসনে কতগুলি সম্পত্তি অভিযুক্তদের নামে রয়েছে এবং সেখানে বাণিজ্যিক কাজকর্ম কতটা বৈধ— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, আবাসনের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়েও নোটিস জারি করা হয়েছে। মৃতার পরিবার জানিয়েছে, স্থানীয় কাউন্সিলর ছাড়া অন্য কোনও জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। এই ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন শম্পা পাণ্ডের পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিই প্রধান হয়ে উঠেছে।