বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের নজির গড়ল চণ্ডীগড়। নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে গড়পড়তা ১০০ দিনেরও কম সময়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে ফৌজদারি মামলা। এতে শুধু আইন ব্যবস্থার প্রতি বিচারপ্রার্থীর আস্থা বেড়েছে তা নয়, আদালতের কার্যকারিতার একটি নতুন মানদণ্ডও স্থাপিত হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রেই আরও দ্রুত রায় ঘোষণার নজির তৈরি হয়েছে। যেমন, গত বছরের নভেম্বরে নথিভুক্ত একটি ছিনতাইয়ের মামলা মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়। সেই মামলায় অভিযুক্ত দুই জনকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের হওয়া একটি শ্লীলতাহানির মামলার রায় প্রায় ১৫০ দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হয়। অভিযুক্ত রজত শর্মাকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়া হয়।
পুলিশের হিসেব অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুসারে চণ্ডীগড়ে মোট ১৬৪টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫১টি মামলায় অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মাত্র ১৩টি মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পেয়েছেন। অর্থাৎ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে, পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে এই হার ছিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। গড় বিচারের সময় এখন মাত্র ৯৩ দিন।
চণ্ডীগড়ের সিনিয়র এসএসপি কনওয়ারদীপ কৌর জানিয়েছেন, নতুন আইনে সময়সীমা নির্দিষ্ট থাকায় চার্জ গঠন থেকে রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে। ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণের ব্যবহার আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। তিনি বলেন, ‘তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত প্রক্রিয়া এখন অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়। সব প্রমাণ সময় ও জিও-স্ট্যাম্পযুক্ত থাকে। ফলে প্রমাণে কারচুপি সম্ভব হয় না এবং আদালতে সহজেই তা গ্রহণযোগ্য হয়।’
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চণ্ডীগড়ের এই সাফল্য দেশব্যাপী দ্রুত বিচার ব্যবস্থার এক রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশ-প্রশাসন—সব পক্ষই এই নতুন গতিশীল ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন।