২০ বছরের পুরনো গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে নতুন রূপরেখা তৈরি করছে কেন্দ্রীয় সরকার।পুরনো গাড়ি থাকলে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে, চালককে খরচ করতে হবে বাড়তি টাকা। এই নিয়ে সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। দেখা যাচ্ছে, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে রেজিস্ট্রেশন পুনর্নবীকরণ-বিভিন্ন খাতে অভিরিক্ত খরচ করতে হবে চালকদের।
এদিকে ২০ বছরের বেশি এমন বাণিজ্যিক গাড়ির সার্টিফিকেট অফ ফিটনেস করাতে গিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বেসরকারি পরিবহণ পরিষেবা। কেন্দ্রীয় পূর্ত পরিবহণ ও সড়ক মন্ত্রকের তরফে দেশের নিয়মবিধির খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, ২০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা গাড়িগুলির ‘সিএফ’ করাতে গিয়ে গুনতে হবে বিশাল অঙ্কের টাকা। তাই এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুক কেন্দ্রীয় সরকার। বেসরকারি পরিবহণ সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস’ এ বিষয়ে নিজেদের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, নতুন প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় পূর্ত সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা বয়সসীমার বাণিজ্যিক যানবাহনগুলির ক্ষেত্রে এবার থেকে ‘সিএফ’ পেতে ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হবে, সঙ্গে দিতে হবে ১৮ শতাংশ জিএসটি। অর্থাৎ, গাড়িপিছু প্রতি বছর গুনতে হবে ৪২ হাজার ৪৮০ টাকা করে।
প্রসঙ্গত, এই বেসরকারি পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রশ্ন। কারণ, এক্ষেত্রে বেসরকারি বাস, ট্যাক্সি, লরি, ম্যাটাডোর-সহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রী এবং পণ্যবাহী অসংখ্য গাড়ি সরাসরি যুক্ত রয়েছে পরিষেবার সঙ্গে। সমস্ত বিষয় জানিয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে বেসরকারি পরিবহণ সংগঠনগুলি।
বর্তমানে ১ থেকে ৮ বছর বয়সের বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে দু’বছর অন্তর সিএফ পেতে ৮৪০ টাকা করে দিতে হয়। ওই একই গাড়ির ৯ থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সিএফ পেতে প্রতি বছরে গুনতে হয় ৮৪০ টাকা।আর ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১২ হাজার টাকা দিতে হয় বছরে। সব ক্ষেত্রেই ১৮ শতাংশ জিএসটি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
পরিবহণ পরিষেবা সংগঠনগুলির তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিবকে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে যে, ২০ বছরের ঊর্ধ্বে গাড়ির বয়ঃসীমা বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে, তাতে পরিবহণ ব্যবসায়ীদের প্রচুর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রচুর গাড়ি রাস্তা থেকে উঠে যাবে।অনেক ক্ষেত্রে সিএফ না নিয়ে গাড়ি চালানোর প্রবণতাও দেখা দেবে যা দেশের পরিবেশের পক্ষে সংকটজনক। তাই তাদের অনুরোধ, খসড়া প্রস্তাবে থাকা ওই আর্থিক বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বিবেচনা করুক পূর্ত পরিবহণ ও সড়ক মন্ত্রক।বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহণ দপ্তরকেও জানিয়েছে রাজ্যের বেসরকারি পরিবহণ সংগঠনগুলি।