অ্যাসিড হামলায় শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হলেও মিলবে সরকারি সুবিধা, সুপ্রিম কোর্টে দাবি কেন্দ্রের

Photo-SNS

অ্যাসিড হামলায় শরীরের বাইরের সঙ্গে অনেক সময়ে ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরও ক্ষতি হয়। যাঁদের অ্যাসিড হামলায় শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়, এবার তাঁদের প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, ২০১৬-এর আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ, এই আইনের আওতায় আসার পরে এবার থেকে তাঁরাও সরকারি সমস্ত সুযোগসুবিধা পাবেন। মঙ্গলবার কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, এই বিষয়ে নিয়মকানুনে সংশোধন করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয়। কেন্দ্রের পক্ষের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, ২২ মে কেন্দ্র একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যাঁরা অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের সকলকে প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁরা সকলেই এই আইনের সুবিধা পাবেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, এই সংশোধনটি ব্যাখামূলক হওয়ায় এটি ২০১৬ সালে আইনে কার্যকর হওয়ার সময় থেকেই বলবৎ বলে গণ্য করা হবে।

শাহিন মালিক নামে অ্যাসিড আক্রান্ত এক সমাজকর্মী শীর্ষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি আদালতে জানান, যাঁদের জোর করে অ্যাসিড খাওয়ানো হয়, তাঁদের খাদ্যনালী, পাকস্থলী ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত। কিন্তু এতদিন ধরে অ্যাসিড হামলার ক্ষেত্রে এই আইনে কেবল শরীরের বাইরের অংশের বিকৃতিকে প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হত। কিন্তু যাঁদের শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হত, তাঁরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।


এদিনের শুনানিতে উঠে আসে অঅযাসিড হামলার মামলায় বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, ক্ষতিপূরণ প্রদানে সমস্যা ও বাজারে সহজেই অ্যাসিড বিক্রির বিষয়টি। আদালত জানায়, পরবর্তী শুনানিতে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৬বি ধারা, যা বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারায় অন্তর্ভুক্ত। জোর করে অ্যাসিড পান করানো বা তার চেষ্টা করার জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সবোর্চ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।