শুধু পেট্রল নয়, এবার নজরে রান্নাঘর: LPG-তেও মিশবে ইথানল, বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র

Center Plans To Blend Ethanol with LPG (AI Imagined)

গ্যাস সিলিন্ডারের (LPG cylinder) দিন কি তবে ফুরিয়ে আসছে? সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়ে দিল, রান্নার জ্বালানি হিসেবে ইথানল (ethanol) ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার সংসদে লিখিত জবাবে পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী জানান, দেশের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা, ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) এবং ভারত পেট্রলিয়ামের (BPCL) যৌথ উদ্যোগ এলপিজি ইকুইপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (LPG Equipment Research Centre) এই মুহূর্তে ইথানল-ভিত্তিক পরিচ্ছন্ন রান্নার বিকল্প নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে।

মন্ত্রকের বক্তব্য, জীবাশ্ম জ্বালানির (fossil fuel) বদলে ইথানল-ভিত্তিক রান্নার জ্বালানি ভবিষ্যতে জৈব-জ্বালানির (biofuel) কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন বিদেশ থেকে আমদানি করা এলপিজি-র উপর নির্ভরতা কমবে, তেমনই দেশে বাড়তি উৎপাদিত ইথানলের যথাযথ ব্যবহারও সম্ভব হবে।

গত কয়েক বছর ধরেই পেট্রলে ইথানল মেশানোর (ethanol blending) কাজ জোরকদমে চলছে দেশে। ২০ শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল বা ই২০ (E20) ইতিমধ্যেই বাজারে সফলভাবে চালু হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার রান্নাঘরে কাজে লাগাতে চাইছে সরকার। পেট্রলিয়াম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের তরফে সম্প্রতি জানানো হয়েছিল, একাধিক আইআইটি (IIT) এবং গবেষণা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইথানল-উপযোগী উনুন বা স্টোভ (ethanol stove) তৈরির কাজও এগিয়ে চলেছে। শীঘ্রই এমন স্টোভের প্রোটোটাইপ বাজারে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।


তবে পথ যে খুব মসৃণ, তা বলা যাচ্ছে না। একই সময়ে ডিজেলে ইথানল মেশানোর পরীক্ষায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে কেন্দ্র। সংসদে সরকার জানিয়েছে, ডিজেলে ইথানল মেশালে জ্বালানির ফ্ল্যাশ পয়েন্ট (flash point) অনেকটা কমে যাচ্ছে, যা নিরাপত্তার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হচ্ছে না। ফলে আপাতত ডিজেলে ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে। সবিস্তার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্ত্রক জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতে এই খবরের গুরুত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বহু গ্রামীণ ও মফসসল এলাকায় এখনও এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান নিয়ে নিয়মিত সমস্যায় পড়তে হয় মানুষকে। দামও থাকে চড়া। সে ক্ষেত্রে ইথানল-ভিত্তিক রান্নার জ্বালানি বাস্তবায়িত হলে খরচ কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে আখ ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্য থেকে ইথানল উৎপাদনের সুযোগও রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যদিও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায়, রাজ্যের হেঁশেলে এই বদল বাস্তবে আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ইথানল নিয়ে সাম্প্রতিক যে জলঘোলা হচ্ছে, তার জেরেও রান্নাঘরের এই বদল আপাতত স্থগিতও হয়ে যেতে পারে।