২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ইপিএফ আমানতে ৮.২৫ শতাংশ সুদ

চলতি বছরেও ইপিএফ-এ বাড়ল না সুদের হার। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও) ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড আমানতের উপর ৮.২৫ শতাংশ সুদের হার অনুমোদন করেছে। টানা দ্বিতীয় বছর এই একই সুদের হার বজায় রাখা হল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ট্রাস্টি পর্ষদের ২৩৯তম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডভিয়া, প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব বন্দনা গুরনানি এবং ইপিএফও-র শীর্ষ আধিকারিকরা।

পর্ষদের অনুমোদনের পর এই সুদের হার এখন অর্থ মন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে দেশের সাত কোটিরও বেশি গ্রাহকের প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসাবে এই সুদের টাকা জমা হবে। ইপিএফ আমানতের সুদ প্রতি মাসে হিসাব করা হলেও অর্থবর্ষের শেষে তা গ্রাহকের হিসাবে জমা করা হয়।

ইপিএফও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে সংস্থার বিনিয়োগ থেকে ভাল রিটার্ন আসায় ৮ শতাংশের বেশি সুদের হার বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড এবং অন্যান্য বিনিয়োগ মাধ্যম থেকে স্থিতিশীল আয় হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর ফলে কর্মীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যে সমস্ত হিসাব টানা ৩৬ মাস নিষ্ক্রিয় থাকে, সেই হিসাব আর সুদের আওতায় থাকে না। তাই গ্রাহকদের নিয়মিত হিসাব সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


এছাড়াও বৈঠকে এককালীন ক্ষমা প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যেসব ট্রাস্ট বা প্রতিষ্ঠান এখনও প্রভিডেন্ট ফান্ড আইনের আওতায় পুরোপুরি আসেনি, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে বহু আইনি জটিলতা মিটবে। হাজার হাজার কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন এবং বিমা প্রকল্প চালু হলে কর্মীদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা নিশ্চিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সুদের হার স্থির রাখা কর্মীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা। এতে কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় সুরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।