প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতেই আসছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ! মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

Image: IANS

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা। এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে ভারত সফরে আসতে পারেন তিনি। আট মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কোনও দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য বিদেশ সফরে যাচ্ছেন বলেন্দ্র। এর আগে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিদেশে গেলেও, সেটি ছিল বহুপাক্ষিক সম্মেলন। এ বার দ্বিপাক্ষিক সফরের গন্তব্য হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই চিনের সঙ্গে নেপালের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর বিষয়ে বলেন্দ্র শাহের আগ্রহ নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন তিনি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রেক্ষিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য নয়াদিল্লিকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নেপালের অতীতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিদেশ সফরের সঙ্গে তুলনা টেনেও এই সফরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে চিন সফরে গিয়েছিলেন। ঝালানাথ খানাল বেছে নিয়েছিলেন তুরস্ককে, আর শের বাহাদুর দেউবা গিয়েছিলেন ব্রিটেনে। কে পি শর্মা ওলি প্রথমে ভারত সফর করলেও পরে চিন সফরে যান। সেই প্রেক্ষিতে বলেন্দ্রের সম্ভাব্য ভারত সফর নেপালের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।


বলেন্দ্র শাহের সফরের সম্ভাব্য সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ভারত, চিন-সহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তাঁর অনাগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে গত আগস্টে নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর দ্রুত ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকাজে অভিজ্ঞ দল পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সহযোগিতার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

ভারত সফরে এলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বলেন্দ্র শাহের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় আলোচনায় উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সফরের দিনক্ষণ বা বৈঠকের কর্মসূচি নিয়ে এখনও ভারত কিংবা নেপাল—কোনও দেশের সরকারই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। ফলে আপাতত গোটা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক মহলের অনুমানের উপর নির্ভর করছে।