রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করেন। তার জেরে তৈরি হয় শূন্যস্থান। এবার পশ্চিমবঙ্গের তিনটি শূন্য হওয়া রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন সদন এই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে। আগামী ২৪ জুলাই এই তিন আসনে ভোটগ্রহণ এবং ভোট গণনা সম্পন্ন হবে। রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পর্যুদস্ত হওয়ার পরে জোড়াফুলে ভাঙন দেখা দেয়। বিধানসভার পরিষদীয় দল ভেঙেছে। লোকসভায় সংসদীয় দল ভেঙে ‘বিদ্রোহী সাংসদরা’ নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের তিনজন সাংসদ পদত্যাগ করে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে দলের প্রতীক এবং তহবিল কার কাছে যাবে তা নিয়ে চর্চা চরমে উঠেছে। তাই জুলাই মাসেই ওই তিন আসনে উপনির্বাচন হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে সুখেন্দুশেখর রায় গত ৮ জুন তারিখে ইস্তফা দেন। তাঁর সদস্যপদের মেয়াদ ছিল ১৮ আগস্ট, ২০২৯ সাল পর্যন্ত। সুস্মিতা দেব গত ১০ জুন, তারিখে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর সদস্যপদের মেয়াদ ছিল ২ এপ্রিল, ২০৩০ পর্যন্ত। আর প্রকাশচিক বরাইক গত ১১ জুন তারিখে পদত্যাগ করেন। তাঁর সদস্যপদের মেয়াদ ছিল ১৮ আগস্ট, ২০২৯ পর্যন্ত। এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ১৪ জুলাই। আর যাচাইয়ের দিন ১৫ জুলাই। নাম প্রত্যাহারের শেষদিন ১৭ জুলাই। ভোটগ্রহণ এবং গণনা ২৪ জুলাই। ২৭ জুলাই তারিখের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
এছাড়া রাজ্য বিধানসভায় এখন যা সমীকরণ তাতে তিনটি আসনেই বিজেপির মনোনীত প্রার্থী জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। বিধানসভায় বিজেপির ২০৮টি আসন আছে। বিজেপির মনোনীত কোনও প্রার্থীকে হারাতে হলে বিরোধীদের দেওয়া কোনও প্রার্থীকে অন্তত ৭০টি ভোট পেতে হবে। বিধানসভায় তৃণমূলের সম্মিলিত শক্তি ৮০ জন বিধায়ক। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল এখন দু’ভাগে বিভক্ত। সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করতে হবে। ভোট দেওয়ার সময় শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসারের সরবরাহ করা নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশনের ‘বেগুনি রঙের স্কেচ পেন’ ব্যবহার করতে হবে।