ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল অন্তত আট শ্রমিকের। ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের আলওয়ার ভিওয়াড়ি এলাকায় একটি রাসায়নিক কারখানায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের ভিতরে এখনও অন্তত এক জন আটকে থাকতে পারেন। রাসায়নিক কারখানার ভিতরে বেআইনি ভাবে বাজি তৈরি করার হত বলে অভিযোগ। তা থেকেই অসাবধনাতায় বিস্ফোরণ হয়েছে এবং আগুন ধরে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে আচমকাই রাসায়নিক কারখানায় আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগুন লাগার পর পরই কারখানার ভিতর থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ভিতর থেকে প্রথমে সাতটি দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একটি দেহ বার করা হয়। মৃতরা সকলেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। আরও অন্তত এক জন ভিতরে আটকে থাকতে পারেন। প্রাথমিক অনুমান, তীব্র তাপ ও দগ্ধ হওয়ার কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
ভিওয়াড়ির সহকারী জেলাশাসক সুস্মিতা মিশ্র জানিয়েছেন, নিয়মিত টহলদারির সময় পুলিশ কারখানা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করে। সঙ্গে সঙ্গে দমকলকে খবর দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কারখানায় অন্তত ২৫ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। আশপাশে আরও কারখানা থাকায় সেগুলিও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খালি করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, কারখানার ভিতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য রাসায়নিক মজুত ছিল, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, দমকল অধিকর্তা রাজু খান জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ভিতরে বেআইনি ভাবে বাজি তৈরি করা হচ্ছিল। সেই কাজের সময় অসাবধানতা থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে সন্দেহ। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় এখনও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।