বেদান্ত গ্রুপের মালিকের বাড়িতে ইডি হানা

বহুজাতিক খনি ও ধাতু ব্যবসায় জড়িত  বেদান্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই সংস্থার একাধিক কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট স্থানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, সোমবার থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। শিল্পপতি অনিল আগরওয়ালের প্রতিষ্ঠিত বেদান্ত গোষ্ঠীর বিভিন্ন দফতর ও নথিপত্র খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। দিল্লি, রাজস্থান-সহ দেশের একাধিক স্থানে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও ঠিক কতগুলি জায়গায় তল্লাশি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (FEMA)-এর আওতায় কিছু লেনদেন এবং আর্থিক কার্যকলাপ নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ, অর্থ স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কিছু ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে থাকতে পারে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এই তল্লাশি অভিযান।


তবে এখনও পর্যন্ত বেদান্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে সংস্থার বিভিন্ন আর্থিক নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন বলে সূত্রের দাবি।

ভারতের খনি, ধাতু, জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষেত্রে বেদান্ত গোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সংস্থাটির ব্যবসা বিস্তৃত। ফলে ইডির এই পদক্ষেপ কর্পোরেট মহলে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্ত চলাকালীন সংস্থার দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনও প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বেদান্ত গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত এই তল্লাশি বা তদন্ত নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ বা আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইডির এই অভিযান ঘিরে শিল্প ও আর্থিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তের ফলাফল কী দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।