অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস

অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে (FY27) ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে “এই বৈশ্বিক পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের পরিবর্তে বহিরাগত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার পটভূমিতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ঐতিহাসিকভাবে নিম্নস্তরে নেমে এসেছে, যদিও আগামী দিনে কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

গৃহস্থালি, কর্পোরেট সংস্থা এবং ব্যাঙ্কগুলির ব্যালান্স শিট এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ। সরকারি বিনিয়োগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন জোগাচ্ছে। ভোক্তা চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ইচ্ছাও বাড়ছে। এই সব বিষয় বহিরাগত ধাক্কার বিরুদ্ধে অর্থনীতিকে আরও সহনশীল করে তুলছে এবং বৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে সাহায্য করছে। আগামী বছরে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) পুনর্নির্ধারণ (rebasing) মুদ্রাস্ফীতি মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে এবং মূল্যগত পরিবর্তন বিশ্লেষণে সতর্কতা প্রয়োজন হবে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলির মন্থর বৃদ্ধি, শুল্কজনিত বাণিজ্য ব্যাঘাত এবং মূলধন প্রবাহের অস্থিরতা মাঝেমধ্যে রপ্তানি ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা এ বছর সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বহির্বিশ্বের অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে পারে। এই ঝুঁকিগুলি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ও নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার গুরুত্বকে আরও জোরদার করে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গৃহীত নীতিগত সংস্কারের সম্মিলিত প্রভাব ভারতের মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে প্রায় ৭ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় থাকায়, বৃদ্ধি নিয়ে ঝুঁকির ভারসাম্য মোটামুটি সমান অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির মধ্যমেয়াদি ভবিষ্যৎ এখনও দুর্বল, যেখানে নিম্নমুখী ঝুঁকির প্রাধান্য রয়েছে। বিশ্বস্তরে বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে পণ্যমূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে।

বিভিন্ন অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি কমতির দিকে যাওয়ায়, মুদ্রানীতিগুলি আরও সহায়ক ও বৃদ্ধিবান্ধব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক উন্নয়ন প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অতিরিক্ত আশাবাদী সম্পদের মূল্যায়নে সংশোধন ঘটতে পারে, যা বৃহত্তর আর্থিক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও, বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বৈশ্বিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এই সব বিষয় মিলিয়ে বৈশ্বিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিম্নমুখী ঝুঁকিই বেশি স্পষ্ট। যদিও আপাতত এক ধরনের ভঙ্গুর স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলে সমীক্ষায় জানানো হয়েছে।